ইন্টার মিলানকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলয়ে বোদো/গ্লিম্টের ঐতিহাসিক সাফল্য
ইন্টার মিলান হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলয়ে বোদো/গ্লিম্ট

ইন্টার মিলানকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলয়ে বোদো/গ্লিম্টের ঐতিহাসিক সাফল্য

নরওয়ের ক্লাব বোদো/গ্লিম্টের স্বপ্নযাত্রা থামছেই না। সপ্তম ম্যাচডে থেকে শুরু হওয়া তাদের দৈত্যবধ চলতেই থাকলো। প্রথমে ম্যানচেস্টার সিটি, এরপর আতলেতিকো মাদ্রিদ, এবার গেল বারের ফাইনালিস্ট ইন্টার মিলানকে দুই লেগেই হারালো নরওয়েজিয়ান এই ক্লাব। সামগ্রিক ফলাফলে ৫-২ গোলে ইন্টারকে হারিয়ে তারা প্রথমবারের মতো চলে গেছে প্রতিযোগিতার শেষ ষোলয়ে।

ইয়েন্স হাউগের বিভীষিকা ফেরালেন

সান সিরো স্টেডিয়ামটা ইয়েন্স হাউগের জন্য বেশ বিভীষিকার ছিল। এই মাঠেই এসি মিলানে কত বঞ্চনার মুহূর্ত সয়েছেন তিনি! সেই বিভীষিকা গত রাতে তিনি ফেরালেন, তবে প্রতিপক্ষের জন্য। ম্যাচের প্রথম গোলটা তিনিই করেন। পরে হাকোন এভিয়েনের গোলেও সহায়তা করেন।

ফেভারিট ইন্টারের পতন

ইন্টার এই প্রতিযোগিতার তিনবারের চ্যাম্পিয়ন। তারা বর্তমানে সেরি আ লিগের শীর্ষে আছে। তাই এই নকআউট প্লে-অফে তারাই ছিল বড় ফেভারিট। কিন্তু বোদো আগেই দেখিয়েছিল তারা চমক দিতে পারে। গ্রুপ পর্বে তারা ম্যানচেস্টার সিটি ও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে হারিয়েছিল। প্রথম লেগে ইন্টারকেও ৩-১ গোলে হারায় তারা।

দ্বিতীয় লেগের নাটকীয়তা

দ্বিতীয় লেগে ইন্টার শুরু থেকেই আক্রমণ চালায়। প্রথমার্ধে তারা একের পর এক শট নেয়। কিন্তু গোলরক্ষক নিকিতা হাইকিন দুর্দান্ত খেলেছেন। তিনি ফেদেরিকো দিমার্কোর বাঁকানো শট ঠেকান। পরে দাভিদে ফ্রাত্তেসির নিশ্চিত গোলও রুখে দেন।

৫৮ মিনিটে আসে স্মরণীয় মুহূর্ত। মানুয়েল আকাঞ্জি বল হারান। ওলে দিদরিক ব্লোমবার্গ বল কেড়ে নিয়ে বক্সে ঢোকেন। তার শট ইয়ান সোমার ঠেকান। তবে ফিরতি বলে হাউগে ভলি করে গোল করেন। এই মৌসুমে এটি হাউগের ষষ্ঠ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ গোল। একটি আসরে কোনো নরওয়েজিয়ান ক্লাবের হয়ে নরওয়ের খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ গোল এটি।

৭২ মিনিটে বোদো দ্বিতীয় গোল পায়। হাউগে দারুণ পাস দেন। এভিয়েন বল থামিয়ে জোরালো শটে গোল করেন। চার মিনিট পর আলেসান্দ্রো বাস্তোনি একটি গোল শোধ দেন। এতে ইন্টার সামান্য আশা পায়। যদিও শেষ পর্যন্ত সে আশাকে আর বাস্তবতায় রূপ দিতে পারেনি ইন্টার। বোদো দাঁতে দাঁত চেপে রেখে ইতিহাস গড়ে ফেলে।

ঐতিহাসিক মাইলফলক

১৯৮৭-৮৮ মৌসুমে লিলেস্ট্রোমের পর প্রথম নরওয়েজিয়ান দল হিসেবে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতার নকআউট পর্ব পার করল তারা। এই সাফল্য নরওয়েজিয়ান ফুটবলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে চিহ্নিত হবে। বোদো/গ্লিম্টের এই যাত্রা দেখিয়ে দিল যে, ছোট দলও বড় প্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে ইতিহাস গড়তে পারে।