দাবার বাইরে নিয়াজ মোরশেদের জীবন: রান্না, ভাষা, গান ও ভ্রমণের গল্প
গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোরশেদ শুধু দাবা খেলোয়াড় নন, তাঁর ব্যক্তিগত জীবনেও রয়েছে নানা শখ ও আগ্রহ। রান্না করতে ভালোবাসেন তিনি, আগে নিয়মিত ব্যায়াম ও সাঁতার কাটতেন। ভাষা শেখার প্রতি তাঁর আগ্রহ জন্মেছে বড় ছেলেকে দেখে, যিনি চারটি ভাষায় পারদর্শী।
ভাষা শেখার নেশা
নিয়াজ মোরশেদ স্প্যানিশ ভাষা চালানোর মতো বলতে পারেন, ফ্রেঞ্চ ও রুশ ভাষায়ও তাঁর দক্ষতা রয়েছে। তুর্কি ভাষার প্রতিও তাঁর আগ্রহ জন্মেছে। তিনি মনে করেন, ভাষা শেখা একটি চমৎকার শখ যা জীবনে নতুন দিগন্ত খুলে দেয়।
গানের প্রতি ভালোবাসা
১৯৯১ সালে বসনিয়ার তুজলা শহরে দাবা টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার সময় গানের প্রতি তাঁর অনুরাগ বেড়ে যায়। সেখানে তিনি ক্রোয়েশিয়ান গায়ক জ্লাদিকো বেবেকের গান শুনে মুগ্ধ হন এবং পরে তাঁর গানের ক্যাসেট সংগ্রহ করেন। ১৯৯৪ সালে তিনি বেবেকের গান ও কিছু স্প্যানিশ গান নিয়ে একটি ক্যাসেট বের করেন, যার নাম অথচ একদিন।
কবিতা ও সাহিত্য
নিয়াজ মোরশেদ কবিতার বইও লিখেছেন, যার নাম মাত্র এক কুড়ি। তিনি ছদ্মনামে এই বইটি প্রকাশ করেছেন। সাহিত্য পড়ার প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ রয়েছে, বিশেষ করে রুশ সাহিত্যিক দস্তয়েভস্কি ও তলস্তয়ের লেখা তিনি পড়েছেন।
ভ্রমণের অভিজ্ঞতা
প্রায় ৫০টি দেশ ভ্রমণ করেছেন নিয়াজ, যার মধ্যে স্পেন তাঁর সবচেয়ে প্রিয়। গ্রানাডা, সেভিয়া, বিলবাও শহর তাঁর বিশেষ পছন্দ। আজারবাইজানের বাকু ও তুরস্কের ইস্তাম্বুলও তাঁকে মুগ্ধ করেছে। ভবিষ্যতে তিনি দক্ষিণ আমেরিকা ভ্রমণ করতে চান।
খেলাধুলার স্মৃতি
ছোটবেলায় তিনি আবাহনী দলের সমর্থক ছিলেন, পরে মোহামেডানে যোগ দিয়ে সেই দলের সমর্থক হয়ে যান। ১৯৭৭ সালে এমসিসির ম্যাচ ও ১৯৮০ সালে ফুটবল ম্যাচ দেখতে গিয়ে পুলিশের হাতে মার খাওয়ার স্মৃতি তাঁর মনে গেঁথে আছে।
ব্যক্তিগত জীবন ও চিন্তাভাবনা
নিয়াজ মোরশেদের প্রিয় খাবার খাসির মাথা ও ইলিশ মাছ। তিনি মনে করেন, জীবন নিয়ে তিনি খুশি, তবে মাকে আরও সময় দিতে না পারার জন্য আফসোস করেন। তাঁর মতে, টাকা দিয়ে কাছের মানুষের মুখে হাসি ফোটানো ও ভ্রমণ করা সম্ভব।



