টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের ঐতিহাসিক জয়, সুপার এইটে সিকান্দার রাজার রেকর্ড ভাঙা নৈপুণ্য
জিম্বাবুয়ের ঐতিহাসিক জয়ে সিকান্দার রাজার রেকর্ড ভাঙা নৈপুণ্য

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের অবিশ্বাস্য জয়পথ, সুপার এইটে জায়গা নিশ্চিত

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক নতুন অধ্যায় রচনা করেছে জিম্বাবুয়ে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৬ উইকেটে পরাজিত করে দলটি ‘বি’ গ্রুপের শীর্ষস্থান দখল করেছে। এই জয়ের মাধ্যমে তারা সুপার এইট পর্বে উত্তীর্ণ হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে, যা তাদের ক্রিকেট ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হবে।

সিকান্দার রাজার নৈপুণ্যে রেকর্ড ভাঙার খেলা

এই ঐতিহাসিক বিজয়ের মূল নায়ক ছিলেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। তিনি ব্যাট ও বল উভয় বিভাগে অসাধারণ পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন। শ্রীলঙ্কার ১৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় জিম্বাবুয়ে জয় পায় ৪ বল হাতে রেখে, যেখানে রাজার ভূমিকা ছিল অপরিসীম।

ব্যাট হাতে চার নম্বরে নেমে সিকান্দার রাজা মাত্র ২৬ বলে ৪৫ রানের একটি বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। এই ইনিংসটি ছিল দুটি চার ও চারটি দর্শনীয় ছক্কায় সজ্জিত, যার স্ট্রাইক রেট দাঁড়িয়েছিল ১৭৩.০৮। এই ঝড়ো ইনিংস জিম্বাবুয়ের জয়ের পথকে মসৃণ করে তোলে। বল হাতেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত মিতব্যয়ী; ৪ ওভারে মাত্র ৩৬ রান দিয়ে তিনি লঙ্কান ব্যাটারদের চাপে রাখেন, যদিও কোনো উইকেট লাভ করতে পারেননি।

বিশ্ব রেকর্ডে সিকান্দার রাজার শীর্ষ অবস্থান

এই ম্যাচের মাধ্যমে সিকান্দার রাজা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ২০তম বারের মতো ম্যাচসেরার খেতাব অর্জন করেছেন। এই অর্জনের ফলে তিনি আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর ক্রিকেটারদের মধ্যে সর্বোচ্চবার ম্যাচসেরা হওয়ার রেকর্ডে ভারতের সূর্যকুমার যাদবকে ছাড়িয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছেন। বর্তমানে এই তালিকায় ভারতের বিরাট কোহলি তৃতীয় স্থানে রয়েছেন, আর রাজার উপরে রয়েছেন কেবল মালয়েশিয়ার বীরান্দিপ সিং, যিনি ২২টি ম্যাচসেরা পুরস্কার জিতেছেন।

এছাড়াও সিকান্দার রাজা আরও একটি অনন্য রেকর্ড গড়েছেন। তিনি আইসিসি আয়োজিত বৈশ্বিক ইভেন্টগুলোতে সবচেয়ে বয়স্ক অধিনায়ক হিসেবে ম্যাচসেরা হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। এর আগে ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এই রেকর্ডটির মালিক ছিলেন ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মা।

জিম্বাবুয়ের ধারাবাহিক সাফল্য ও সুপার এইটে উত্তরণ

জিম্বাবুয়ের এই জয় টুর্নামেন্টে তাদের অপরাজিত থাকার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। এর আগে তারা শক্তিশালী দল অস্ট্রেলিয়া ও ওমানকে পরাজিত করেছিল, যদিও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়েছিল। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই বিজয় জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। গ্রুপ পর্বের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দলটিকে বিশ্ব আসরের অন্যতম দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

সিকান্দার রাজার নেতৃত্বে জিম্বাবুয়ের এই ‘জায়ান্ট কিলিং’ ইমেজ সুপার এইট পর্বে অন্যান্য বড় দলগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে রাজার ফর্ম ও নেতৃত্বগুণ জিম্বাবুয়ের ড্রেসিংরুমে যে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে, তা টুর্নামেন্টের পরবর্তী ধাপে বড় কোনো চমকের ইঙ্গিত দিচ্ছে। জিম্বাবুয়ের এই যাত্রা ক্রিকেট বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে যে তারা এখন আর সহজ শিকারী নয়, বরং একটি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী।