জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস: বিশ্বকাপে দুর্দান্ত জয়
জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল কখনো টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতেনি, এমনকি কোনো আইসিসি টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালেও খেলার সুযোগ পায়নি। অথচ এবারের বিশ্বকাপে তারা অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কার মতো দুই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে হারিয়ে দিয়েছে। ২০২৬ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের 'বি' গ্রুপে জিম্বাবুয়ের এই অভাবনীয় সাফল্য ক্রিকেট বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।
অতীত সংকট ও বর্তমান সাফল্য
জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট গত আট বছর ধরে অনিশ্চয়তা ও হতাশার মধ্য দিয়ে সময় কাটিয়েছে। ২০১৯ বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব উতরাতে ব্যর্থ হওয়ার পর দলটি রীতিমতো দিশাহারা হয়ে পড়েছিল। কোচ হিথ স্ট্রিকসহ পুরো কোচিং স্টাফ বরখাস্ত হয়, অভিজ্ঞ খেলোয়াড় গ্রায়েম ক্রেমার বিদেশে চলে যান, আর সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে আইসিসি জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ডের সদস্যপদ স্থগিত করে। ২০২৩ বিশ্বকাপে অংশ নিতে না পারায় ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও তাদের সুযোগ হয়নি।
দেশের অর্থনৈতিক দুর্দশা আর প্রশাসনিক জটিলতার মধ্যে পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া ধীরগতির ছিল। ২০২৪ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে না পারা ছিল সবচেয়ে বড় ধাক্কা। আফ্রিকান বাছাইতে নামিবিয়া ও উগান্ডার কাছে হারার পর প্রশ্ন ওঠে, নব্বইয়ের দশকে ক্রিকেট বিশ্বে সমীহ জাগানো জিম্বাবুয়ে কি মহাদেশীয় পর্যায়েই সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে?
হার না মানা মানসিকতা ও ঐতিহাসিক জয়
জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটারদের দৃঢ় মনোবল আর প্রশাসকদের সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত দলটিকে পতনের হাত থেকে রক্ষা করে। ২০২৫ সালে আফ্রিকান বাছাইয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে তারা এবারের বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয়। বিশ্বকাপের আগে গ্রায়েম ক্রেমারের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের দলে ফিরে আসা দলের শক্তি বৃদ্ধি করে।
টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে ওমানকে ৮ উইকেটে হারালেও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে তেমন আলোচনা ছিল না। কিন্তু ১৩ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়াকে ২৩ রানে হারানোর পরই অবস্থা বদলে যায়। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৬ উইকেটে জয়ী হয়ে তারা সুপার এইটে উত্তীর্ণ হওয়া নিশ্চিত করে। শ্রীলঙ্কার ১৭৮ রানের জবাবে জিম্বাবুয়ে মাত্র ৪ উইকেট হারিয়ে ৩ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছায়।
অধিনায়কের প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
জয়ের পর অধিনায়ক সিকান্দার রাজা বলেন, 'আমার মনে হয় না কেউ আমাদের এ পর্যন্ত আসার সুযোগ করে দিয়েছে। মানুষের মন জয় করা এবং তাদের সম্মান অর্জন করতে পারা সত্যিই দারুণ ব্যাপার।' তিনি আরও যোগ করেন, 'আইসিসির ইভেন্ট মানুষকে সব দিক থেকে বদলে দেয়, তা সে স্বীকৃতি হোক, খ্যাতি হোক, আর্থিক দিক হোক, সম্মান হোক।'
সুপার এইটে ভারত, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলতে যাওয়া জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক এখন আরও বড় লক্ষ্যের কথা বলছেন। রাজা উল্লেখ করেন, 'আমরা যদি ওই তিন ম্যাচের মধ্যে দুটিতে জিততে পারি, তাহলে কে জানে কী হতে পারে। সবাই আন্ডারডগের গল্প ভালোবাসে।'
জিম্বাবুয়ের এই সাফল্য শুধু ক্রিকেট মাঠেই সীমাবদ্ধ নেই, এটি গোটা দেশের জন্য আশার বার্তা বয়ে এনেছে। দলটি প্রমাণ করেছে যে দৃঢ় সংকল্প ও কঠোর পরিশ্রম দিয়ে যেকোনো প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব।
