ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক: মাশরাফি-সাকিবের ক্রিকেটে ফেরায় সরকারের নমনীয়তা, মুর্শেদী-দুর্জয়ের ক্ষেত্রে আইনি পথ
মাশরাফি-সাকিবের ক্রিকেটে ফেরায় সরকারের নমনীয় মনোভাব

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর ব্যস্ত দিন: মাশরাফি-সাকিবের ফেরার পথে সরকারি নমনীয়তা

নতুন সরকারের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো মন্ত্রণালয়ে ব্যস্ত সময় পার করেছেন। তিনি ১৮০ দিনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও করছেন। তবে রাতে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দেশের দুই কিংবদন্তি ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজা ও সাকিব আল হাসানের ক্রিকেটে ফেরার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন।

মাশরাফি ও সাকিবের জন্য সরকারের নমনীয় মনোভাব

সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় দলের দুই ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজা ও সাকিব আল হাসানের নামে মামলা রয়েছে, যার ফলে তারা ক্রিকেটসহ বিভিন্ন কার্যক্রম থেকে দূরে রয়েছেন। সাকিব দীর্ঘদিন ধরেই দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। এ অবস্থায় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক তাদের ক্রিকেটে ফেরার বিষয়ে সরকারের নমনীয় মনোভাবের কথা স্পষ্ট করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘মাশরাফি ও সাকিব বর্তমান সময়ের ক্রিকেটার, তাই তারা যেন দ্রুত ক্রিকেটে ফিরতে পারে, সে কারণে তাদের আইনি প্রক্রিয়া বা জামিনের বিষয়ে সরকার নমনীয় থাকবে।’

মুর্শেদী ও দুর্জয়ের ক্ষেত্রে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি

অন্যদিকে, কারাগারে থাকা আব্দুস সালাম মুর্শেদী ও নাইমুর রহমান দুর্জয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে আমিনুল হক বলেছেন, ‘মাশরাফি ও সাকিবের বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন। আব্দুস সালাম মুর্শেদী ও নাইমুর রহমান দুর্জয়ের বিষয়ে আলাদা করে ভাবা হয়নি। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।’ এটি ইঙ্গিত দেয় যে সরকার এই দুই সাবেক তারকার ক্ষেত্রে একই নমনীয়তা দেখাচ্ছে না।

ক্রিকেটে ফেরার উদ্যোগ ও আইনি প্রক্রিয়া

মাশরাফি ও সাকিবকে দ্রুত ক্রিকেটে ফেরানোর উদ্যোগ বা দায়িত্ব কে নেবে, এমন প্রশ্নের জবাবে আমিনুল হক বলেছেন, ‘উদ্যোগটা তাদের নিজেদেরই নিতে হবে। তারা আইনি জটিলতায় রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম বা অন্য কোনও অভিযোগ প্রমাণিত না হলে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সমাধান সম্ভব।’ তিনি আরও যোগ করেছেন, ‘আমার মতে, বিষয়টি সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য।’ এটি নির্দেশ করে যে সকল ক্রীড়াবিদের জন্য আইনি প্রক্রিয়া সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সর্বোপরি, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর এই মন্তব্য বাংলাদেশের ক্রিকেট জগতে নতুন আশার সঞ্চার করেছে, বিশেষ করে মাশরাফি ও সাকিবের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে। তবে মুর্শেদী ও দুর্জয়ের মতো সাবেক তারকাদের ক্ষেত্রে সরকারের কঠোর অবস্থান বজায় রয়েছে।