অভিষেক শর্মার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হতাশা: টানা তৃতীয় শূন্য, ডাকের রেকর্ডে দ্বিতীয় স্থান
অভিষেক শর্মার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হতাশা: টানা তৃতীয় শূন্য

অভিষেক শর্মার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্স: টানা তৃতীয় শূন্য রানে আউট

আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ 'এ'-এর একটি ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ভারতের ওপেনার ও বিশ্ব এক নম্বর টি-টোয়েন্টি ব্যাটার অভিষেক শর্মার ক্যারিয়ারে হতাশার আরেকটি অধ্যায় যোগ হয়েছে। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে তিনি মাত্র তিন বল খেলে শূন্য রানে আউট হয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো ডাক মারেন।

ম্যাচের শুরুতেই বিদায়: আরিয়ান দত্তের স্পিনে স্টাম্প ভেঙে যায়

ম্যাচের প্রথম ওভারেই নেদারল্যান্ডসের স্পিনার আরিয়ান দত্ত অভিষেক শর্মার স্টাম্প ভেঙে দেন, যা তার জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের বিপক্ষেও শূন্য রানে ফিরেছিলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। ফলে চলতি বিশ্বকাপে এখনও রানের খাতা খুলতে পারেননি অভিষেক, যা তার ফর্ম নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ডাকের রেকর্ডে অভিষেকের অবস্থান: যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে

এই আউটের মাধ্যমে ২০২৬ সালে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক শর্মার ডাকের সংখ্যা পাঁচে দাঁড়িয়েছে। এটি এক ক্যালেন্ডার বছরে ওপেনারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ডাকের তালিকায় তাকে নিয়ে গেছে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে। এই তালিকায় সবার ওপরে আছেন পাকিস্তানের সাইম আইয়ুব, যিনি ২০২৫ সালে ছয়বার শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন।

ওপেনার হিসেবে পাঁচ ডাক নিয়ে অভিষেক এখন থাইল্যান্ডের চালোমওং চাটফাইসান (২০২৪), নেপালের কুশল ভুর্তেল (২০২৪), ইন্দোনেশিয়ার ধর্মা কেসুমা (২০২৫) ও বাংলাদেশের পারভেজ হোসেন ইমনের (২০২৫) সঙ্গে একই সারিতে অবস্থান করছেন। একই সঙ্গে এক বছরে ভারতের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি ডাকের রেকর্ডেও সঞ্জু স্যামসনের পাশে নাম লেখান তিনি; স্যামসন ২০২৪ সালে পাঁচবার শূন্য করেছিলেন।

শিভাম ডুবের ঝোড়ো ইনিংসে ভারতের বড় সংগ্রহ

অভিষেক শর্মার ব্যর্থতা সত্ত্বেও শিভাম ডুবের ঝোড়ো ইনিংসে ভারত একটি বড় সংগ্রহ পেয়েছে। দলের বিপর্যয়ের মুহূর্তে আবারও দায়িত্ব নিয়ে ২৫ বলে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৩১ বলে ৬৬ রান করেন ডুবে, যেখানে ছিল চারটি চার ও ছয়টি ছক্কা। হার্দিক পান্ডিয়ার সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে ৭৬ রানের জুটি গড়ে ভারতের রান তোলার গতি বাড়ান তিনি।

ম্যাচের সারসংক্ষেপ: ভারতের শক্তিশালী ইনিংস

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। শুরুতেই অভিষেকের বিদায়ের পর আরিয়ান দত্তের চাপে পড়ে যায় ভারত। ইশান কিষাণ ১৮ রান করে আউট হলে পাওয়ারপ্লে শেষে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২ উইকেটে ৫১। এরপর সূর্যকুমার যাদব ও তিলক বর্মার জুটি গড়ে উঠলেও ৪১ বছর বয়সী রোলফ ভ্যান ডার মারভের দারুণ ডাইভিং ক্যাচে ৩১ রানে ফেরেন তিলক।

১০ ওভার শেষে ভারতের রান ছিল ৩ উইকেটে ৭৪। মাঝের কয়েক ওভার ধীরগতির পর ১২তম ওভার থেকে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ভারত। সূর্যকুমার ছক্কা হাঁকান, আর পরের ওভারেই ডুবে দুটি ছক্কা ও একটি চারে ১৯ রান তোলেন। সূর্যকুমার ৩৪ রান করে আউট হলেও শেষ পর্যন্ত একাই ইনিংস টেনে নেন ডুবে।

শেষ পাঁচ ওভারে ৭৫ রান তুলে ভারত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৯৩ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায়। নেদারল্যান্ডসের হয়ে লোগান ভ্যান বিক ৩ উইকেট নেন। আরিয়ান দত্ত ২টি এবং কাইল ক্লেইন ১টি উইকেট শিকার করেন।