শূন্যে ভেসে নিশাঙ্কার অবিশ্বাস্য ক্যাচ, ক্রিকেট বিশ্বে স্মরণ করাল জন্টি রোডসকে
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর একটি নাটকীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কার তারকা ক্রিকেটার পাথুম নিশাঙ্কা একটি অবিশ্বাস্য ক্যাচ নিয়েছেন, যা পুরো ক্রিকেট বিশ্বকে অভিভূত করে দিয়েছে। এই ক্যাচটি দেখে অনেকের মনে পড়ে গেছে দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ফিল্ডার জন্টি রোডসের কথা, যিনি ফিল্ডিংয়ের ধারণাই বদলে দিয়েছিলেন।
ম্যাচের সমীকরণ ও নিশাঙ্কার ক্যাচ
ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জিতলেই শ্রীলঙ্কা সুপার এইট পর্বে চলে যাবে, আর হেরে গেলে অস্ট্রেলিয়ার জন্য বিদায়ের শঙ্কা তৈরি হবে। এমন চাপের মধ্যে নিশাঙ্কা আগের ওভারে ম্যাক্সওয়েলের একটি সহজ ক্যাচ ফেলে দিলেও, পরের ওভারেই তিনি সব পুষিয়ে দেন একটি অসাধারণ ক্যাচের মাধ্যমে।
দুশান হেমন্তার ফ্লাইটেড ডেলিভারি অফ স্টাম্পের বাইরে ছিল, ম্যাক্সওয়েল হাঁটু গেড়ে বসে রিভার্স সুইপ খেলেন। ব্যাটে ভালোভাবে লাগায় মনে হয়েছিল বল বাউন্ডারি পেরিয়ে যাবে, কিন্তু ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে দাঁড়িয়ে থাকা নিশাঙ্কা হাওয়ায় ভেসে নিখুঁত টাইমিংয়ে বলটি তালুবন্দি করেন।
স্টেডিয়ামের প্রতিক্রিয়া ও ম্যাচের ফলাফল
এই ক্যাচের পর খানিক সময়ের জন্য স্টেডিয়াম স্তব্ধ হয়ে যায়, তারপরই গ্যালারিতে লঙ্কান সমর্থকদের উল্লাস শুরু হয়। মাঠে নিশাঙ্কাকে নিয়ে আনন্দে মেতে ওঠে তার সতীর্থরা। ম্যাক্সওয়েল ১৫ বলে ২২ রান করে আউট হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়া খেই হারিয়ে ফেলে এবং ইনিংসে দুর্দান্ত শুরুর পরও শেষ পর্যন্ত ১৮১ রানে অলআউট হয়।
জন্টি রোডসের স্মৃতি
নিশাঙ্কার এই ক্যাচটি ১৯৯২ বিশ্বকাপে জন্টি রোডসের সেই আইকনিক ডাইভিং রানআউটের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, যেখানে তিনি দৌড়ে এসে স্টাম্প ভেঙে দিয়ে ইনজামাম উল হককে আউট করেছিলেন। সেই মুহূর্তটি শুধু ম্যাচই নয়, বরং ফিল্ডিং নিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটের ধারণা বদলে দিয়েছিল। আজ নিশাঙ্কার ক্যাচও তেমনই ঐতিহাসিক হয়ে উঠেছে।
এই ম্যাচের মাধ্যমে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উত্তেজনা আরও বেড়েছে, এবং নিশাঙ্কার অবদান শ্রীলঙ্কার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। ক্রিকেটপ্রেমীরা এই ক্যাচটি দীর্ঘদিন মনে রাখবেন, ঠিক যেমনটি তারা জন্টি রোডসের কীর্তি মনে রেখেছেন।
