পিৎজার কারিগর থেকে শিক্ষক: ইতালির ক্রিকেট দলের ঐতিহাসিক জয়ের পেছনের গল্প
ইতালির ক্রিকেট দলের ঐতিহাসিক জয়: পেশাদারিত্বের বাইরের গল্প

ইতালি ক্রিকেট দলের ঐতিহাসিক জয়: পেশাদারিত্বের বাইরের গল্প

গতকাল মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইতালি ক্রিকেট দল একটি ঐতিহাসিক জয় অর্জন করেছে। অভিষেক টুর্নামেন্টে নেপালের বিপক্ষে এই জয়ে দলটি তাদের প্রথম সাফল্য পায়। নিয়মিত অধিনায়ক ওয়েন ম্যাডসেনের চোটের কারণে অধিনায়ক হিসেবে হ্যারি মানেন্তি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হন।

পেশাদারিত্বের বাইরের জীবন

মানেন্তি বলেন, 'আমাদের স্কোয়াড যদি দেখেন, ১৫ জনের মধ্যে ১২ জনকেই ক্রিকেটের বাইরে অন্য কাজ করতে হয়।' তিনি উদাহরণ হিসেবে কৃশ কালুগামাগের কথা উল্লেখ করেন, যিনি ম্যাচসেরা হয়েও জীবিকা নির্বাহের জন্য পিৎজা বানান এবং সেই আয় থেকে অনুশীলনের খরচ মেটান।

জয়ের নায়ক মস্কা ভাইদের আসল পেশা সম্পর্কে জানা যায়। জাস্টিন মস্কা সিডনির একটি স্কুলে শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন, অন্যদিকে তাঁর ভাই অ্যান্থনি মস্কা কিশোর সংশোধন সেন্টারে কাঠের কাজ শেখান। দলের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে জৈন আলী একজন প্রকৌশলী এবং জসপ্রীত সিং ইংল্যান্ডে উবার চালিয়েছেন।

বহিরাগত হিসেবে অনুপ্রেরণা

আইসিসি টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে ইতালি এখন ২৬তম দল। মানেন্তি জানান, এই বহিরাগত অবস্থান তাদের জন্য আলাদা অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। '২০ দলের একটি প্রতিযোগিতায় বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে আমরা ২৭তম। অতএব আমরা নেপাল, স্কটল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, অস্ট্রেলিয়া—যার সঙ্গেই খেলি না কেন, আমরা আসলে বহিরাগত।'

তিনি আরও যোগ করেন যে এই অবস্থান তারা ভালো করার প্রেরণা হিসেবে উপভোগ করেন এবং আশা করেন যে কয়েক বছরের মধ্যে ইতালিতে ক্রিকেটের ব্যাপ্তি বৃদ্ধি পাবে, যাতে তারা পূর্ণ মেয়াদে পেশাদার খেলতে পারেন।

ফুটবলের সঙ্গে তুলনা

ফুটবলে ইতালি চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, কিন্তু ২০০৬ বিশ্বকাপের পর থেকে তাদের সাফল্য ক্রিকেট দলের সমান। দুই দলই একটি করে ম্যাচ জিতেছে বিশ্বকাপে। ইতালি ফুটবল দল ২০১০, ২০১৪ বিশ্বকাপে খারাপ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে এবং সাম্প্রতিক বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি।

ইতালিয়ান ফুটবলের অবকাঠামো ক্রিকেট কাঠামোর চেয়ে অনেক শক্তিশালী হলেও, ক্রিকেট দলের এই সাফল্য তুলনামূলকভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সংবাদমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া

ইতালি বর্তমানে শীতকালীন অলিম্পিকে মনোযোগী, যা ৬ ফেব্রুয়ারি মিলানে শুরু হয়েছে। দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলোর শিরোনামে শীতকালীন অলিম্পিক এবং ফুটবলের প্রাধান্য বেশি। ইতালি ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ জন ডেভিসন আশা করেন, এই জয় সংবাদমাধ্যমের ধারায় পরিবর্তন আনবে।

ডেভিসন বলেন, 'এটা অনেক দেশের এবং ইতালির অনেক প্রকাশনার প্রথম পাতার খবর হবে… অন্তত আমি তা–ই আশা করছি। আমাদের এমন প্রচার পাওয়া এবং হয়তো শীতকালীন অলিম্পিককে খেলার পেছনের পাতায় ঠেলে দেওয়া দেশের ক্রিকেটের জন্য হবে অবিশ্বাস্য ব্যাপার।'

এই জয় ইতালির ক্রিকেটের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে খেলাটির উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে।