বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত বারবার নেওয়া উচিত: ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল
যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল তার শেষ কর্মদিবসে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে এসে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। মাত্র দুই মাসেরও কম সময় ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা এই উপদেষ্টার সময়ে সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্ত ছিল নিরাপত্তাশঙ্কায় ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানানো।
অনুতাপের কোনো প্রশ্ন নেই
আসিফ নজরুল বলেন, ‘এ নিয়ে কোনো অনুতাপের প্রশ্নই আসে না। সিদ্ধান্তটি নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়রা। দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার স্বার্থেই তারা এই ত্যাগ স্বীকার করেছে।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এই সিদ্ধান্তটি জাতীয় স্বার্থে গৃহীত হয়েছে এবং এতে কোনো দ্বিধা নেই।
আইসিসির সিদ্ধান্ত ও নতুন দৃষ্টান্ত
বিশ্বকাপে না যাওয়ায় বাংলাদেশের আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষতির শঙ্কা থাকলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) কোনো শাস্তি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ জন্য বিসিবির প্রশংসা করে ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, ‘এটি একটি নতুন দৃষ্টান্ত। প্রয়োজনে এমন সিদ্ধান্ত বারবার নেওয়া উচিত।’ তিনি বিশ্বাস করেন যে এই পদক্ষেপটি ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশের জন্যও উদাহরণ হতে পারে।
বিকেএসপি ও সেন্টার অব এক্সিলেন্স
বিকেএসপি প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘বড় পরিসরে জাতীয় ক্রীড়া ইনস্টিটিউট গড়তে সময় ও অর্থ লাগবে। তাই আপাতত আরচারি, ফুটবল ও টেবিল টেনিসে সীমিত আকারে সেন্টার অব এক্সিলেন্স গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’ এই উদ্যোগের মাধ্যমে ক্রীড়া উন্নয়নে একটি ধাপে ধাপে পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আগামী ক্রীড়ামন্ত্রীর প্রতি বার্তা
আগামী ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছে আসিফ নজরুলের চাওয়া, ‘একটি খেলাকে প্রাধান্য না দিয়ে সব খেলাকেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে। ক্রিকেটের পাশাপাশি কাবাডি, ফুটবল ও দাবার উন্নয়নও জরুরি।’ তিনি মনে করেন যে সকল ক্রীড়া শাখার উন্নয়নই জাতীয় ক্রীড়া ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে।
এই সাক্ষাৎকারে আসিফ নজরুল তার দায়িত্বকালের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, যা ক্রীড়া জগতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
