রশিদ খানের প্রত্যাশা: আফগানিস্তানের নারী ক্রিকেট দল দেখতে চান তারকা অলরাউন্ডার
আফগানিস্তানের পুরুষ ক্রিকেট দলের তারকা অলরাউন্ডার রশিদ খান প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন যে, তিনি নিজ দেশের নারী ক্রিকেট দল দেখতে চান। তবে তার কথায় কিছুটা অসহায়ত্বও ফুটে উঠেছে, যা আফগানিস্তানে নারী ক্রিকেটের বর্তমান সংকটপূর্ণ পরিস্থিতির প্রতিফলন।
চেন্নাইয়ে বিশ্বকাপ ম্যাচের আগে রশিদের স্পষ্ট বক্তব্য
চলমান বিশ্বকাপে চেন্নাইয়ে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচের পূর্বে রশিদ খানকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আফগান ক্রিকেটের প্রধান মুখ হিসেবে তিনি নারী দল দেখতে চান কি না। জবাবে রশিদ বলেন, 'নারী দল? অবশ্যই চাই। আমি জানি, আইসিসির পূর্ণ সদস্য হওয়ার জন্য এটা একটি শর্ত। আইসিসি এবং আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি) তাদের যথেষ্ট ধারণা রাখে। তবে, যে কেউ আফগানিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করুক, সেটা দেখলে ভালো লাগবে।'
এরপর তিনি বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, 'কখনও কখনও ক্রিকেটার হিসেবে আমাদের কাছে অনেক কিছু নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে এবং নিয়ন্ত্রণযোগ্য বিষয় নিয়ে আমরা কেবল চিন্তা করতে পারি। নারী ক্রিকেটের বিষয়েও আমরা এমন অবস্থায় আছি যে, অনেক কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে যে সমর্থন প্রয়োজন, তা সবসময়ই থাকবে। কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা অন্য বড় মানুষদের হাতে।'
আফগানিস্তানে নারী ক্রিকেটের ইতিহাস ও বর্তমান সংকট
আইসিসির পূর্ণ সদস্যপদ পেতে আফগানিস্তানকে ছেলে ও মেয়ে দুটি দল থাকতে হবে, যা একটি অপরিহার্য শর্ত। ২০১৭ সালে আফগানিস্তান টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার সময় এই শর্ত পূরণ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এরপর আফগান সরকার ধীরে ধীরে নারী ক্রিকেটের প্রক্রিয়া শুরু করে এবং মেয়েরা কিছুটা হলেও ক্রিকেট খেলা শুরু করে।
২০২০ সালে প্রথমবারের মতো ২৫ জন নারী ক্রিকেটারকে কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় আনা হয়, যা একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ছিল। কিন্তু ২০২১ সালে তালেবানরা ক্ষমতা গ্রহণের পর সব কিছু ভেস্তে যায়। ক্রিকেট তো দূরের কথা, মেয়েরা স্কুলে যাওয়াও বন্ধ হয়ে যায়, যা নারী শিক্ষা ও ক্রীড়ার উপর একটি গভীর আঘাত হিসেবে দেখা দিয়েছে।
সেই সময়, রশিদ খান, মোহাম্মদ নবী ও রহমানউল্লাহ গুরবাজের মতো তারকারা নারী শিক্ষা বন্ধ হওয়া নিয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন। তবে, তারা তখনও নিজেরা প্রতিবাদ করতে অক্ষম ছিলেন, এটা তারা স্বীকার করেন, যা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ক্রীড়াবিদদের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে।
আইসিসির ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
আইসিসির পূর্ণ সদস্যপদের শর্তাবলী পূরণে আফগানিস্তানের নারী ক্রিকেট দল গঠন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে তালেবান শাসনের অধীনে এই প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়েছে, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সম্প্রদায়ের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। রশিদ খানের মন্তব্যে স্পষ্ট যে, ক্রিকেটাররা নারী দলের প্রতি সমর্থন জানালেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা উচ্চ পর্যায়ের কর্তৃপক্ষের হাতে, যা বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে।
এই পরিস্থিতিতে, আফগানিস্তানের নারী ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত রয়ে গেছে। তবে রশিদ খানের মতো তারকাদের কণ্ঠস্বর এই বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে এবং আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টিতে সহায়ক হতে পারে, যা হয়তো একদিন ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যাবে।
