হতাশ আর্সেনাল কোচ মিকেল আরতেতা নিজের অনুভূতি এক শব্দে প্রকাশ করে বলেছেন, 'কষ্ট'। বুদাপেস্টে পিএসজির কাছে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে হারার পর সংবাদ সম্মেলনে এ কথাই প্রথম বলেছিলেন তিনি। ফাইনালের হতাশা সঙ্গী হলেও আর্সেনালের সামনে এখন আরেকটি উপলক্ষ অপেক্ষা করছে। রোববার প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা উদযাপনে খোলা বাসে শহর প্রদক্ষিণ করবে দলটি। চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালের বেদনা নিয়েই সেই উদযাপনে মাতবেন তারা।
ফাইনালের বেদনাদায়ক পরিণতি
এ মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের আগপর্যন্ত অপরাজিত ছিল আর্সেনাল। গতকাল রাতের ফাইনালেও শুরুতে ১-০ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর পেরে ওঠেনি। দ্বিতীয়ার্ধে সমতা ফেরায় প্রায় ৭৫ শতাংশ বলের দখল রাখা পিএসজি। নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত সময়েও ১-১ সমতায় থাকে ম্যাচ। এরপর টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে জিতে বাজিমাত করে টানা দ্বিতীয় শিরোপা নিশ্চিত করে লুইস এনরিকের দল।
আরতেতার প্রতিক্রিয়া ও পেনাল্টি বিতর্ক
ম্যাচের আগে আর্সেনাল কোচ আরতেতা বলেছিলেন, প্রিমিয়ার লিগ জয়ের সাফল্যকে তিনি আরও বড় অর্জনের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করতে চান। লক্ষ্য ছিল চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জেতা এবং দলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই স্বপ্নের শেষ ধাপে গিয়েই হোঁচট খেতে হয়েছে আর্সেনালকে। ২০০৬ সালের পর প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে উঠেও নিজেদের ইতিহাসের প্রথম ইউরোপীয় শিরোপা জেতা হলো না গানারদের।
তারপরও আর্সেনালের মৌসুমটিকে সফলই বলতে হবে। ২২ বছর পর প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতেছে দলটি। তবে ফাইনালে এমন হৃদয়ভাঙা পরাজয়ই হয়তো আগামী মৌসুমে আরও শক্তিশালী হয়ে ফেরার প্রেরণা জোগাবে আর্সেনালকে। ফাইনাল শেষে অনুভূতি জানাতে গিয়ে আরতেতা বলেন, 'পুরো টুর্নামেন্টে এতটা ধারাবাহিক থাকার পর ফাইনালে এসে টাইব্রেকারে শিরোপা হারানো মেনে নেওয়া খুব কঠিন।'
এরপর দ্বিতীয়ার্ধে আর্সেনালকে পেনাল্টি না দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ সামনে আনেন তিনি। পিএসজির বক্সের ভেতর নুনো মেন্দেসের ধাক্কায় ননি মাদুয়েকে পড়ে গেলে পেনাল্টি দাবি তুলেছিল আর্সেনাল; যদিও তাতে সাড়া দেননি রেফারি। আরতেতা বলেন, 'পেনাল্টি কী এবং কী নয়, সেটা বোঝার জন্য গত ৭২ ঘণ্টায় আমি এই প্রতিযোগিতার সব পেনাল্টির ঘটনা দেখেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে, ওই ঘটনাটি সহজেই পেনাল্টি হতে পারত।' তবে বিষয়টি নিয়ে বেশি আক্ষেপ করতে চাননি স্প্যানিশ এই কোচ। তাঁর ভাষায়, 'কিন্তু এগুলো সবই যদি-কিন্তুর আলোচনা। বাস্তবে তা ঘটেনি। আমাদের আরও ভালো করতে হবে। উন্নতি করতে হবে এবং এমন কিছু জায়গায় এগিয়ে যেতে হবে, যেগুলো শেষ পর্যন্ত আমাদের কাঙ্ক্ষিত ফল এনে দেবে।'
আগামী মৌসুমের পরিকল্পনা
ফাইনালের হতাশা পেছনে ফেলে আরতেতা ইতিমধ্যে আগামী মৌসুমের পরিকল্পনা নিয়েও ভাবতে শুরু করেছেন। তাঁর লক্ষ্য, আর্সেনালকে আবারও ইউরোপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে ফিরিয়ে আনা এবং শিরোপার স্বপ্ন পূরণ করা। আরতেতা বলেন, 'সবার আগে আমি পরিবারের সঙ্গে কয়েকটি দিন কাটাব। এরপর আমরা পুরো মৌসুম পর্যালোচনার কাজ শুরু করব, কী করেছি আর কোথায় উন্নতির সুযোগ আছে, তা খতিয়ে দেখব। যদি আমরা আরও এক ধাপ ওপরে উঠতে চাই, তাহলে কিছু খুব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে।'
দলের সামর্থ্যের ওপর আস্থা রেখে আরতেতা যোগ করেন, 'আমরা এটা করতে সক্ষম। তবে সে জন্য আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষী হতে হবে। খুব দ্রুত এবং খুব বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে এগোতে হবে। যদি পরের স্তরে পৌঁছাতে চাই, তাহলে সেই মানসিকতা ও প্রস্তুতি আমাদের দেখাতেই হবে।'



