রমজান-ঈদে ডিম-মুরগির বাজার অস্থির, বিপিএ'র ৬ দফা দাবি ও করপোরেট সিন্ডিকেটের অভিযোগ
ডিম-মুরগির বাজার অস্থির, বিপিএ'র ৬ দফা দাবি

রমজান-ঈদে ডিম-মুরগির বাজার অস্থির, বিপিএ'র ৬ দফা দাবি ও করপোরেট সিন্ডিকেটের অভিযোগ

রমজান ও ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে দেশের ডিম ও ব্রয়লার মুরগির বাজারে চলমান অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পোল্ট্রি এসোসিয়েশন (বিপিএ)। সংগঠনটি করপোরেট সিন্ডিকেটের অভিযোগ তুলে সরকারের কাছে ৬ দফা দাবি পেশ করেছে, যা শিল্পের স্থিতিশীলতা ও খামারিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

উৎপাদন খরচ বনাম লোকসানের চিত্র

বিপিএ'র দাবি অনুযায়ী, উৎপাদন খরচ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও প্রান্তিক খামারিরা মুরগির ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। গত সাত মাস ধরে প্রতি কেজি মুরগিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং প্রতি ডিমে ৩ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। এই পরিস্থিতি শিল্পের টিকে থাকাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

বিপিএ সভাপতির বক্তব্য ও বাজার ব্যবস্থাপনার দাবি

বাংলাদেশ পোল্ট্রি এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. সুমন হাওলাদার বলেন, "বর্তমানে হঠাৎ করেই মুরগির দাম বেড়ে গেছে, কিন্তু একটি ডিম বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৬ থেকে ৭ টাকার ভেতরে, যেখানে এর উৎপাদন খরচ প্রায় ১০ টাকা। আমরা সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে বাজার ব্যবস্থাপনায় থাকতে চাই না। আমরা ডিম এবং মুরগির উৎপাদন খরচের বিপরীতে ১০ শতাংশ লাভ যুক্ত করে সরকারের নিয়ন্ত্রণে বাজার দেখতে চাই।" তার মতে, এই পদক্ষেপ বাজারকে স্থিতিশীল করতে সহায়ক হবে।

খামারিদের চ্যালেঞ্জ ও কর্মসংস্থানের ঝুঁকি

খামারিদের মুখোমুখি হওয়া চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • খাবার, বাচ্চা ও ওষুধের উচ্চ মূল্য, যা উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
  • নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও বাচ্চার ক্ষেত্রে গ্রেডিং অনুসরণ না করা, যা মান নিয়ন্ত্রণে বাধা সৃষ্টি করছে।

এই পরিস্থিতিতে প্রায় ৫০ হাজার শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং ৫০ থেকে ৬০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়েছে। বিপিএ নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এই শিল্প খাত মারাত্মক সংকটে পড়তে পারে।

৬ দফা দাবির মূল বিষয়গুলো

বিপিএ'র ৬ দফা দাবিতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

  1. সরকারি নিয়ন্ত্রণে বাজার ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা।
  2. উৎপাদন খরচের ভিত্তিতে ডিম ও মুরগির ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করা।
  3. করপোরেট সিন্ডিকেটের প্রভাব কমানোর জন্য কঠোর নজরদারি চালু করা।
  4. খামারিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও ভর্তুকি প্রদান করা।
  5. বাচ্চা ও অন্যান্য উপকরণের মান নিয়ন্ত্রণে গ্রেডিং পদ্ধতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা।
  6. রমজান ও ঈদকালীন বিশেষ নীতিমালা প্রণয়ন করে বাজার স্থিতিশীল রাখা।

এই দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে পোল্ট্রি শিল্পের টেকসই উন্নয়ন ও ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা সম্ভব হবে বলে মনে করছে বিপিএ।