আষাঢ় মাস চলছে, আর এর সাথে পাল্লা দিয়ে আসছে রোদ-বৃষ্টির খেলা। এই মৌসুমে ত্বকের যত্ন নেওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ে। বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে ত্বক ম্যাড়মেড়ে ও অনুজ্জ্বল হয়ে পড়ে। তাই বর্ষাকালে ত্বকের সৌন্দর্য ধরে রাখতে কিছু বিশেষ ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করা জরুরি।
টোনিং: ত্বক পরিষ্কার রাখার প্রথম ধাপ
বৃষ্টিতে ভিজলে শুধু মুখ ও হাত-পা মোছাই যথেষ্ট নয়। পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে তোয়ালে দিয়ে মুছে ফেলতে হবে। নিয়মিত টোনিং ত্বক পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য টোনার ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। শুষ্ক ত্বকের জন্য সাধারণ তাপমাত্রায় টোনার সংরক্ষণ করাই যথেষ্ট।
ডিপ ক্লিনিং: ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ান
গরমের তুলনায় বর্ষায় ডিপ ক্লিনিং বেশি প্রয়োজন। ফ্রিজে রাখা ঠান্ডা শসা কুচি করে ত্বকে কিছুক্ষণ রেখে দিলে উজ্জ্বলতা বাড়ে। তৈলাক্ত ত্বকে কালচে ভাব দূর করতে মুলতানি মাটি ও গোলাপজলের মিশ্রণ মুখে লাগিয়ে রাখতে পারেন।
ব্রণের দাগ দূর করার উপায়
ব্রণ ও দাগ দূর করতে শসা, গোলাপজল ও কাঁচা হলুদের পেস্ট কার্যকর। মিশ্র ত্বকের জন্য ডিমের সাদা অংশ, মধু, লেবুর রস ও দুধের সর মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে মুখে লাগালে উজ্জ্বলতা ফিরে আসে। শুষ্ক ত্বকের জন্য ২০০ মিলিলিটার গ্লিসারিন ও ২০০ মিলিগ্রাম গোলাপজল মিশিয়ে বোতলে রেখে সারা শরীরে ম্যাসাজ করুন। এরপর গ্লিসারিনযুক্ত সাবান দিয়ে গোসল করলে শুষ্কভাব দূর হয়।
বলিরেখা কমাতে ডিমের প্যাক
বয়স্কদের জন্য বলিরেখা কমাতে একটি ডিমের সাদা অংশ ভালোভাবে ফেটিয়ে তাতে এক লেবুর রস মিশিয়ে মুখ ও নাকে ১০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললে ত্বক টানটান হয়।
চুলের যত্ন: বর্ষায় চুল সুন্দর রাখুন
রোদ-বৃষ্টিতে চুলের ক্ষতি হয়। বৃষ্টির পানিতে ভিজলে বাড়ি ফিরে শ্যাম্পু করে ফেলুন। টকদই, পাকা পেঁপে ও কলা একসঙ্গে চটকে প্যাক বানিয়ে চুলে লাগিয়ে রাখুন। এতে চুল ঝরঝরে ও সুন্দর থাকে।
পায়ের ত্বকের যত্ন
বৃষ্টির পানিতে পা ভেজার কারণে সমস্যা হতে পারে। তাই বাইরে থেকে এসে হালকা পেডিকিউর ও মেনিকিউর করুন। গরম পানিতে চায়ের লিকার করে পা ১০-১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। দুই চামচ চিনি ও এক চামচ মধু মিশিয়ে স্ক্রাবের মতো পা ম্যাসাজ করে পানি দিয়ে ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগান।
আলু ও পাতিলেবুর রসের প্যাক
আলু ও পাতিলেবুর রস মিশিয়ে মুখে ১৫ মিনিট লাগিয়ে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ত্বক পরিষ্কার হবে। অথবা পাতিলেবুর রস ও গরুর কাঁচা দুধ মিশিয়ে মুখে ১০ মিনিট লাগাতে পারেন।
শসা ও টমেটোর রসের টোনার
শসা ও টমেটোর রস মিশিয়ে ছেঁকে ফ্রিজে রেখে দিন। ঠান্ডা অবস্থায় তুলা দিয়ে মুখে লাগালে ত্বক সতেজ হয়।
এছাড়াও বর্ষায় আরও কিছু উপকারী প্যাক রয়েছে। যেমন: কুসুম গরম পানিতে অল্প কর্পূর ও চিনি মিশিয়ে তুলা দিয়ে মুখে লাগালে ময়েশ্চারাইজারের কাজ করে। আপেল বাটা, কয়েক ফোঁটা মধু ও দুধের সর মিশিয়ে ১৫-২০ মিনিট লাগিয়ে রাখলে ত্বক ঝকঝকে হয়। কাঁচা হলুদ বাটা, দুধ, গোলাপ ফুলের পাঁপড়ি বাটা, চন্দন বাটা ও পাতিলেবুর রসের প্যাকও কার্যকর। মসুর ডাল বাটা, মুলতানি মাটি, গোলাপজল, পাতিলেবুর খোসা বাটা, মধু ও নিমপাতা বাটার পেস্ট মুখ ও গলায় লাগিয়ে রাখতে পারেন। সবশেষে, মুলতানি মাটি, টক দই, গোলাপজল ও টমেটোর রসের পেস্ট মুখে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই উপকরণগুলো গোসলের সময় সাবানের পরিবর্তে ব্যবহার করলে ত্বকের লোমকূপ থেকে ময়লা বেরিয়ে ত্বক কোমল ও মসৃণ হয়।



