বার্নড হেস্ট্যাক মেথড: ডেটিংয়ে দ্রুত সিদ্ধান্তের কৌশল
বার্নড হেস্ট্যাক মেথড: ডেটিংয়ে দ্রুত সিদ্ধান্তের কৌশল

বার্নড হেস্ট্যাক মেথড: ডেটিংয়ে দ্রুত সিদ্ধান্তের কৌশল

ডেটিং অ্যাপে পরিচয় হলো। দু-একদিন কথা বলতেই মনে হলো, মানুষটা অহংকারী। কেউ বারবার মিথ্যা বলছেন, কেউ আবার শুরুতেই অসম্মানজনক মন্তব্য করে বসেছেন। তখন কী করবেন? আরও কিছুদিন সুযোগ দেবেন, নাকি শুরুতেই সম্পর্কের সম্ভাবনাটাই শেষ করে দেবেন?

সম্প্রতি ডেটিং নিয়ে আলোচনায় এসেছে নতুন একটি ধারণা—‘বার্নড হেস্ট্যাক মেথড’। সহজ ভাষায়, ভুল মানুষকে বেছে নেওয়ার ঝুঁকি কমাতে আগে থেকেই সম্ভাব্য ‘খারাপ’ মানুষদের বাদ দিয়ে দেওয়া।

শুনতে কঠোর মনে হলেও, এর সমর্থকেরা বলছেন—এতে সময়, মানসিক শক্তি এবং আবেগ—সবই বাঁচে। তবে সমালোচকদের মতে, অতিরিক্ত দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া উল্টো ভালো সম্পর্কের সম্ভাবনাও নষ্ট করতে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কী এই ‘বার্নড হেস্ট্যাক’ পদ্ধতি?

একটি পরিচিত প্রবাদ আছে—‘খড়ের গাদায় সূঁচ খোঁজা’। অর্থাৎ, অসংখ্য বিকল্পের মধ্যে সঠিক মানুষটিকে খুঁজে বের করা। এই ধারণা থেকেই এসেছে ‘বার্নড হেস্ট্যাক’ বা ‘খড়ের গাদা পুড়িয়ে ফেলা’ পদ্ধতি।

মার্কিন লেখক ও গবেষক জেনি ইয়াং এই ধারণাটিকে জনপ্রিয় করেন। তার যুক্তি, মানুষকে পছন্দের তালিকায় আনার চেয়ে অপছন্দের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া অনেক সহজ। তাই যাদের মধ্যে শুরু থেকেই স্পষ্ট ‘রেড ফ্ল্যাগ’ বা সতর্ক সংকেত দেখা যায়, তাদের দ্রুত বাদ দিন। এতে শেষ পর্যন্ত যাদের রাখা হবে, তাদের মধ্যে উপযুক্ত কাউকে পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

অর্থাৎ, এমন মানুষদের শুরুতেই ছেঁটে ফেলুন, যারা নিয়মিত মিথ্যা বলেন, অন্যকে ছোট করেন, নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেন, নিষ্ঠুর আচরণ করেন কিংবা সম্পর্কের ব্যাপারে অসৎ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কেন জনপ্রিয় হচ্ছে এই পদ্ধতি?

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, আধুনিক ডেটিংয়ের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো ‘ডিসিশন ফ্যাটিগ’—অতিরিক্ত বিকল্পের কারণে সিদ্ধান্ত নিতে ক্লান্ত হয়ে পড়া। ডেটিং অ্যাপে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়। কিন্তু সবার জন্য সমান সময়, মনোযোগ বা আবেগ ব্যয় করা সম্ভব হয় না।

এই জায়গায় ‘বার্নড হেস্ট্যাক’ পদ্ধতি অনেকের কাছে স্বস্তির মনে হয়। কারণ এটি বলে, আগে ঠিক করুন আপনি কী চান না। তারপর বাকি মানুষদের নিয়ে ভাবুন। ভুল মানুষকে নিয়ে দীর্ঘ সময় কাটানোর চেয়ে শুরুতেই দূরে সরে যাওয়া অনেকের কাছে বেশি বাস্তবসম্মত বলেই মনে হয়।

সমস্যা কোথায়?

সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো—তাড়াহুড়ো করে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া। একটি মন্তব্য, একটি অস্বস্তিকর মুহূর্ত কিংবা প্রথম দেখার ধারণা দিয়ে কি একজন মানুষকে পুরোপুরি বিচার করা যায়? সব সময় নয়।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের আচরণ পরিস্থিতিভেদে বদলাতে পারে। কেউ হয়তো নার্ভাস হয়ে অদ্ভুত কিছু বলে ফেলেছেন, কেউ ভুল বোঝাবুঝির শিকার হয়েছেন। তাই একটি ঘটনা দেখেই কাউকে চূড়ান্তভাবে বাতিল করে দেওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত নাও হতে পারে।

অনেক বিশেষজ্ঞ এ ক্ষেত্রে ‘তিনবারের নিয়ম’-এর কথা বলেন। অর্থাৎ, কোনও নেতিবাচক আচরণ একাধিকবার হচ্ছে কিনা, সেটি দেখুন। কথার পাশাপাশি কাজও পর্যবেক্ষণ করুন।

তাহলে কী করবেন?

‘বার্নড হেস্ট্যাক’ পদ্ধতি আসলে কোনও জাদুকরি সূত্র নয়। এটি মনে করিয়ে দেয়—সবাইকে খুশি করার চেষ্টা করতে হবে না। নিজের সীমা, মূল্যবোধ ও চাহিদা সম্পর্কে পরিষ্কার থাকা জরুরি। তবে একইসঙ্গে অন্য মানুষকে বোঝার জন্য প্রয়োজন ধৈর্য, পর্যবেক্ষণ এবং কিছুটা নমনীয়তা।

কারণ সম্পর্কের জগৎ গণিতের সমীকরণ নয়, যেখানে কয়েকটি নিয়ম মেনে চললেই সঠিক উত্তর পাওয়া যায়। হয়তো সত্যিই খড়ের গাদায় সূঁচ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কিন্তু সব খড় পুড়িয়ে ফেলতে গিয়ে যদি সেই সূঁচটিও পুড়ে যায়? তাহলে খোঁজটা শেষ হওয়ার আগেই শেষ হয়ে যেতে পারে একটি সম্ভাবনাময় গল্প।