ছবি: ফ্রিপিক
হিজরি বর্ষপঞ্জি ও চাঁদের গুরুত্ব
হিজরি বর্ষপঞ্জি পুরোপুরি চাঁদের আবর্তনের ওপর নির্ভরশীল। আকাশে নতুন চাঁদের উদয় মানে একটি হিজরি মাসের সমাপ্তি এবং নতুন একটি মাসের আগমন। ইসলামে নতুন চাঁদ দেখা আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞতা ও কল্যাণ প্রার্থনার এক বিশেষ সুযোগ। মহানবী (সা.) আকাশে নতুন চাঁদ দেখলে উম্মতকে সঙ্গে নিয়ে একটি বিশেষ দোয়া পাঠ করতেন।
চাঁদ দেখে নবীজির আমল
রাসুল (সা.) যখনই নতুন চাঁদ দেখতেন, তখন দোয়া পড়তেন, “আল্লাহু আকবার, আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ঈমানি, ওয়াসসালামাতি ওয়াল ইসলামি, ওয়াত্তাওফিকি লিমা তুহিব্বু ওয়া তারদা, রাব্বুনা ওয়া রাব্বুকাল্লাহ।” অর্থ: আল্লাহ মহান। হে আল্লাহ, তুমি এই নতুন চাঁদকে আমাদের ওপর উদিত করো নিরাপত্তা, ইমান, শান্তি ও ইসলামের সাথে। এবং তুমি যা ভালোবাসো ও পছন্দ করো, তার তাওফিক (সফলতা) দান করো। (হে চাঁদ!) আমাদের এবং তোমার রব হলো আল্লাহ। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৪৫১)
আরও পড়ুন: বেহেশতে ঘর নির্মাণ হবে যাদের জন্য – ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
চাঁদ দেখার সময় এই দোয়াটি পাঠ করা মোস্তাহাব বা অত্যন্ত প্রশংসনীয় একটি আমল, যা মানুষের অন্তরকে প্রকৃতির নিদর্শনের মাধ্যমে স্রষ্টার আরও কাছাকাছি নিয়ে যায়। (ইমাম ইবনে তাইমিয়া, মাজমুউল ফাতাওয়া, ২৪/৪৪৭, মাকতাবাতুল ওবাইকান, রিয়াদ, ১৪২৫ হিজরি)
কী চাইছি আমরা এই দোয়ায়
মাত্র কয়েকটি শব্দের প্রার্থনায় নবীজি একটি সুন্দর জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সব উপাদান যুক্ত করে দিয়েছেন।
- বরকত ও কল্যাণ: দোয়ার শুরুতেই আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হচ্ছে যেন আগত মাসটি আমাদের জীবনে সমৃদ্ধি, বরকত ও কল্যাণ বয়ে আনে। তা হতে পারে রুজি-রোজগারে, সময়ে কিংবা স্বাস্থ্যে।
- ইমানের দৃঢ়তা: মানুষের ইমান সবসময় একরকম থাকে না, তা ওঠানামা করে। নতুন মাসের সূচনালগ্নে মুমিন আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে যেন এই নতুন দিনগুলোতে তার ইমানি শক্তি আরও মজবুত ও সুদৃঢ় হয়।
- নিরাপত্তা ও শান্তি: দুনিয়াবি জীবনে নানামুখী বিপদ-আপদ, রোগ-বালাই ও দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে থাকার জন্য আল্লাহর দেওয়া ‘সালামত’ বা নিরাপত্তা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
- ইসলামের ওপর অবিচলতা: কেবল মুখে মুসলিম দাবি করাই যথেষ্ট নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনে ইসলামের বিধান ও বিধি-নিষেধ মেনে চলা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করাই মূল লক্ষ্য।
- তাওহিদের ঘোষণা: দোয়ার শেষ অংশটি অত্যন্ত চমৎকার ও ঈর্ষণীয়—‘আমার ও তোমার প্রতিপালক একমাত্র আল্লাহ’। এর মাধ্যমে মুমিন চাঁদের দিকে তাকিয়ে বিশ্বজগতের স্রষ্টাকে স্মরণ করে। প্রাচীনকালের অনেক জাতি চাঁদ ও সূর্যের পূজা করত। কিন্তু একজন মুসলমান চাঁদের দিকে তাকিয়ে ঘোষণা করে যে, হে চাঁদ, তুমিও আল্লাহর এক সাধারণ সৃষ্টি, তোমার নিজস্ব কোনো ক্ষমতা নেই। তোমার স্রষ্টা যিনি, আমার স্রষ্টাও তিনি।
শেষ কথা
রাসুল (সা.) চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য প্রমাণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন এবং মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসবগুলোতে ঐক্যবদ্ধ থাকার তাগিদ দিয়েছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯০৯)
আধুনিক যুগে আমরা অনেকেই প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় হিজরি কত তারিখ বা আজ কী মাস, তার খবর রাখার প্রয়োজন বোধ করি না। মনে রাখতে হবে, হিজরি মাসের হিসাব রাখা এবং প্রতি মাসের শুরুতে নতুন চাঁদ অনুসন্ধান করা একটি সুন্নাহ ইবাদত।
আরও পড়ুন: মহানবী কেন ‘মাদায়েনে সালেহ’ দেখতে নিষেধ করেছেন – ১০ জুন ২০২৬
প্রথম আলোর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
ইসলাম থেকে আরও পড়ুন: নবীজি (সা.), দোয়া, সওয়াব, সুন্নত, আমল, হাদিস, চাঁদ



