মেথির পানি চুলের যত্নে বহুদিন ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি সরাসরি চুল গজাতে না পারলেও নতুন চুল গজানোর জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। মেথিতে রয়েছে আয়রন, ফ্ল্যাভোনয়েড, স্যাপোনিন ও প্রোটিন, যা চুলের গোড়া মজবুত করে, স্প্লিট এন্ডস কমায় এবং স্ক্যাল্প সুস্থ রাখে। বর্তমান কেশচর্চা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেথি ভেজানো পানির গুণ বাড়াতে তাতে আরও কিছু ভেষজ উপাদান যোগ করা যেতে পারে।
রোজমেরি: রক্তসঞ্চালন বাড়ায়
রোজমেরি চুলের স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে উপকারী ভেষজগুলোর একটি। এটি স্ক্যাল্পে রক্তসঞ্চালন বাড়ায়, হেয়ার ফলিকল সুস্থ রাখে এবং চুল পাতলা হওয়া রোধ করে। এতে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা চুল গজাতে সাহায্য করে।
ব্যবহারবিধি: একমুঠো শুকনো রোজমেরি পাতা মেথির সঙ্গে ফুটিয়ে নিন। ঠান্ডা হলে ছেঁকে সেই পানি স্ক্যাল্পে লাগান, তারপর শ্যাম্পু করুন। রোজমেরি পাতা না থাকলে রোজমেরি এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার করতে পারেন।
অ্যালোভেরা: আর্দ্রতা ও আরাম
অ্যালোভেরা শুষ্ক স্ক্যাল্পে আর্দ্রতা জোগায় এবং জ্বালাভাব কমায়। এটি চুল নরম ও মসৃণ করে এবং চুলের সৌন্দর্য বাড়ায়।
ব্যবহারবিধি: অ্যালোভেরা ফুটিয়ে ব্যবহার করবেন না। মেথির পানি পুরোপুরি ঠান্ডা হওয়ার পর তার সঙ্গে অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে চুলের গোড়ায় ভালোভাবে মেখে নিন।
লবঙ্গ: স্ক্যাল্প পরিষ্কার ও উজ্জ্বলতা
লবঙ্গ ইউজেনল, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল গুণে সমৃদ্ধ। এটি স্ক্যাল্প পরিষ্কার রাখে, খুশকি দূর করে এবং চুলে উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে।
ব্যবহারবিধি: মেথি ফুটানোর সময় ৩-৫টি লবঙ্গ যোগ করুন।
কারিপাতা: চুল ভাঙা কমায় ও পুষ্টি দেয়
কারিপাতায় বিটা-ক্যারোটিন, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যামিনো অ্যাসিড রয়েছে, যা চুল ভাঙা কমায়, স্ক্যাল্পকে পুষ্টি দেয়, চুল মজবুত করে এবং অকালপক্কতা রোধ করে।
ব্যবহারবিধি: মেথির সঙ্গে ১০-১৫টি তাজা কারিপাতা ফুটিয়ে নিন। ছেঁকে সেই পানি চুলের গোড়ায় লাগান। অথবা মেথি ও কারিপাতা বেটে হেয়ার মাস্কের মতো স্ক্যাল্পে লাগিয়ে শ্যাম্পু করুন।
তবে এগুলো ঘরোয়া উপায়। স্ক্যাল্পের সমস্যা বাড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।



