রাজশাহী পরিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম গতকাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছে। সংগঠনটি সরকারি ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল বসিয়ে দেশে ৫০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে।
স্মারকলিপি প্রদান
মানববন্ধন শেষে ফোরামের নেতারা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (সাধারণ) কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন। স্মারকলিপিতে তাদের দাবিগুলো উল্লেখ করা হয়।
আয়োজনে বক্তারা
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট দিল সেতারা ছুন্নি। বক্তব্য রাখেন সদস্য সচিব রাশেদ রিপন এবং সদস্য সুভাষ চন্দ্র হেমব্রম, ছোটন সর্দার ও পঙ্কজ কর্মকার।
বক্তারা বলেন, ছাদে সোলার সিস্টেম সম্প্রসারণে স্থানীয় সোলার শিল্পে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে ইনস্টলেশন সার্ভিস, রক্ষণাবেক্ষণ ও সরঞ্জাম সরবরাহে কর্মসংস্থান বাড়বে। এটি টেকসই সবুজ অর্থনীতির বিকাশে ভূমিকা রাখবে।
দাবি ও সুপারিশ
সংগঠনটি রাজশাহী জেলা প্রশাসনের অধীনসহ সব সরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের ছাদে তাৎক্ষণিকভাবে সোলার সিস্টেম বসানোর আহ্বান জানায়। এছাড়া নেট-মিটারিং ব্যবস্থা সহজীকরণ এবং ব্যাপক গ্রহণে শক্তিশালী প্রশাসনিক সহায়তার দাবি জানানো হয়।
বক্তব্যের গুরুত্ব
অ্যাডভোকেট দিল সেতারা ছুন্নি বলেন, সাম্প্রতিক গণমাধ্যম প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় আগামী তিন মাসের মধ্যে সব জেলা প্রশাসন অফিসে ছাদে সোলার সিস্টেম বসানোর নির্দেশ দিয়েছে। তিনি এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী, পরিবেশবান্ধব ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে বর্ণনা করেন।
ফোরাম সদস্য সুভাষ চন্দ্র হেমব্রম বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে জ্বালানি সংকট, আমদানি নির্ভরতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এ প্রেক্ষাপটে সরকারি ভবনের ছাদ ব্যবহার করে সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদন জাতীয় গ্রিডের চাপ কমাতে, বিদ্যুৎ ব্যয় হ্রাস করতে, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে এবং স্থানীয় পর্যায়ে সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সহায়ক হবে।
ট্রান্সফরমেশন ডিরেক্টর রাশেদ রিপন বলেন, এই উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন বাংলাদেশকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে আঞ্চলিক উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে এবং দেশকে আরও পরিষ্কার, সাশ্রয়ী ও টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।



