ক্যারিয়ার নিয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষা বনাম জীবন যেমন চলুক: কার দৃষ্টিভঙ্গি ভালো?
ক্যারিয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা বনাম জীবন যেমন চলুক: তুলনামূলক বিশ্লেষণ

প্রতীকীছবি: এআই/বন্ধুসভা

রাজধানীর একটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন শিমুল (ছদ্মনাম)। পড়াশোনা শেষে কর্মজীবনে তাঁর পাঁচ বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে। এরই মধ্যে তিনবার প্রমোশন পেয়েছেন। ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন জুনিয়র এক্সিকিউটিভ হিসেবে। বর্তমানে তিনি সিনিয়র এক্সিকিউটিভ। তাঁর লক্ষ্য এই প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ে যাওয়া। সে জন্য প্রতিনিয়ত কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

একই প্রতিষ্ঠানে রাহাত (ছদ্মনাম) নামের আরও এক কর্মী রয়েছেন। তাঁরও এই চাকরিতে পাঁচ বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে। কাজ করছে এক্সিকিউটিভ হিসেবে। স্যালারি যা পান, তা দিয়ে জীবন ভালোভাবেই চলে যাচ্ছে। করপোরেট জগতে নিজেকে বড় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার তাঁর কোনো ইচ্ছা নেই। জীবন যেভাবে চলছে, তা নিয়েই সে সন্তুষ্ট।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আমাদের চারপাশে শিমুল ও রাহাতের মতো এমন অনেকেই রয়েছেন। দুজনেরই জীবনকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা। জীবনকে দেখার এই দৃষ্টিভঙ্গিতে উভয়েরই শক্তি ও দুর্বল জায়গা রয়েছে। কার দৃষ্টিভঙ্গি ভালো? তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা যাক।

ক্যারিয়ার নিয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তি

শক্তির দিক: এ ধরনের মানুষের জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে খুবই স্পষ্ট ধারণা থাকে এবং তাঁরা তাঁদের এ ব্যাপার নিয়ে গর্ববোধ করেন। নিজের কাজের মাধ্যমে জীবনসঙ্গী ও কাছের মানুষদের প্রবলভাবে অনুপ্রাণিত ও উৎসাহ দিতে পারেন। কর্মক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ও অর্জনের জন্য তাঁদের মূল্যায়ন করা হয়। এমনকি পিতা–মাতা হিসেবেও তাঁরা সন্তানদের কাছে আদর্শ হয়ে থাকেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দুর্বল দিক: সব সময় ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করায় বর্তমান অনেক সময় তাঁদের কাছে তেমন প্রাধান্য পায় না। আবার তাঁরা ভবিষ্যৎকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। এ কারণে মনমতো কোনো কাজ না করতে পারলে তাঁরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। যদি লক্ষ্যে পৌঁছাতে না পারেন, কিংবা যেমন আশা করেছিলেন তেমনটি না ঘটে, সে ক্ষেত্রে নিজেই নিজের সমালোচক হয়ে হতাশায় নিমজ্জিত হতে পারেন। আর যদি জীবনসঙ্গী তাঁর মতো ক্যারিয়ার নিয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী না হন, তখন এমন মূহূর্তগুলোতে জীবনসঙ্গীর ওপর ছোট ছোট বিষয়ে মেজাজ খারাপ হতে পারে।

কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের সঙ্গে সব সময় তাঁদের একধরনের প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব থাকে, যা পজিটিভ সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাঁরা তাঁদের সন্তানদের ওপর অনেক সময় বেশি প্রত্যাশা রাখেন। সেই চাপে সন্তানদের মধ্যেও হতাশা তৈরি হতে পারে।

জীবন যেমন চলছে চলুক মনোভাবাসম্পন্ন ব্যক্তি

শক্তির দিক: এ ধরনের মানুষেরা ভবিষ্যতের চেয়ে বর্তমানকে বেশি গুরুত্ব দেয়। এ কারণে বর্তমানকে উপভোগ করতে পারে এবং তাঁরা উদ্বিগ্ন কম হন। কোনো একটা কাজ করলে সেটার সার্বিক ফলাফল থেকেও নিজের সৃষ্টিশীল কাজের আনন্দটাই তাঁদের কাছে বেশি প্রাধান্য পায়। নিজের প্রতি নিজে কঠোর সমালোচনা কম করেন। কাজের চাপ যতই হোক, সহকর্মীদের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক হয় সহজ ও স্বস্তিদায়ক। এই নির্ভার মনোভাব পিতা–মাতা হওয়ার পরও বজায় থাকে। সন্তানদের জীবন উপভোগ করতে শেখায়, বর্তমানে বাঁচতে শেখায়, নিজের জন্য কিছু করতে শেখায়। কর্মক্ষেত্রেও স্থিরতা ও কাজের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব ধরে রাখতে পারে।

দুর্বল দিক: এ ধরনের কিছু মানুষের জীবন নিয়ে কোনো লক্ষ্য থাকে না। এ কারণে কোনো কাজেই সিরিয়াস হতে পারে না। নিজের মতো করে জীবন সাজানোর পরিবর্তে জীবন যেভাবে চলছে, সেটাকেই মেনে নেয়। যদি তাঁদের জীবনসঙ্গী ক্যারিয়ার নিয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী হয়, সে ক্ষেত্রে সঙ্গীটি উৎসাহ কম পাবেন এবং কাজপাগল বলে কথা শুনতে হবে। পিতা–মাতা হলে সন্তানেরা সঠিক গাইডলাইন না–ও পেতে পারে। সন্তান যত্ন কম পাবে। একটা সময় গিয়ে যখন তাঁরা পেছনে ফিরে তাকাবেন, কিংবা অন্যান্য সহকর্মী ও বন্ধুদের জীবন মূল্যায়ন করবেন, তখন হয়তো তিনি তাঁর নিজের জীবন নিয়ে আফসোস করতে পারেন।

সূত্র: সাইকোলজি টুডে

মনোবন্ধু থেকে আরও পড়ুন