কুয়েতে অনুপ্রবেশ করে নাশকতামূলক হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চলতি মাসের শুরুর দিকে সমুদ্রপথে কুয়েতে প্রবেশের সময় তাদের গ্রেফতার করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে ওই চারজন আইআরজিসির সঙ্গে নিজেদের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন। পারস্য উপসাগরের উত্তর-পশ্চিম কোণে ইরানি উপকূলের কাছে অবস্থিত কুয়েতের বুবিয়ান দ্বীপে মাছ ধরার নৌকায় করে অনুপ্রবেশ এবং শত্রুভাবাপন্ন কর্মকাণ্ড চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাদের।
গ্রেফতার হওয়া চারজনই ইরানি নৌবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তারা হলেন- কর্নেল আমির হোসেন আব্দুল মোহাম্মদ জারাই, কর্নেল আব্দুল সামাদ ইয়াদুল্লাহ ঘানাভাতি, ক্যাপ্টেন আহমদ জামশিদ গোলাম রেজা যা আল-ফাকারি এবং ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট বুরি মোহাম্মদ হোসেন সোহরাব ফারুকি রাদ।
কুয়েত সরকারের তথ্যমতে, গত ১ মে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর এক অভিযানে তারা ধরা পড়েন। ওই সময় সংঘর্ষে কুয়েতের এক সেনাসদস্য আহত হন। আইআরজিসির আরও দুজন সদস্য পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানা গেছে। এর আগে গত ৩ মে কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এই সফল অভিযানের কথা জানালেও তখন বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করেনি। তবে ইরান এখন পর্যন্ত এই অভিযোগের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই কুয়েতের সঙ্গে তেহরানের উত্তেজনা বাড়ছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হামলার পাশাপাশি ইরান কুয়েতের তেলক্ষেত্র এবং পানি ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র লক্ষ্য করে ১ হাজারেরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
গত ৬ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি শুরুর ঠিক দুই দিন আগে বুবিয়ান দ্বীপে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর স্যাটেলাইট সরঞ্জাম ও গোলাবারুদ লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায় ইরান। এর আগে মার্চ মাসে এই দ্বীপের মোবারক আল-কাবীর বন্দরেও ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছিল। সবশেষ রবিবার ভোরে কুয়েতের আকাশসীমায় কয়েকটি ‘শত্রুভাবাপন্ন ড্রোন’ প্রতিহত করার দাবি করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী, যা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
ইরানি হামলার আশঙ্কায় কুয়েত কর্তৃপক্ষ দেশটির অভ্যন্তরে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে ডজনখানেক কথিত হিজবুল্লাহ সদস্যকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।
গত মার্চের শেষের দিকে নিরাপত্তা বাহিনী পাঁচ নাগরিক এবং নাগরিকত্ব বাতিল হওয়া এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। তাদের বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং কুয়েতের ‘রাষ্ট্রীয় প্রতীক ও নেতাদের’ ওপর গুপ্তহত্যার পরিকল্পনার অভিযোগ আনা হয়েছে।



