নতুন সরকারের প্রথম ১০০ দিন: বাজেট ও প্রত্যাশা ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ
নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো একটি উপযোগী বাজেট তৈরি করা। কারণ, আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পেশের সময় খুব দ্রুতই চলে আসবে। এই বাজেটে নতুন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিফলন ঘটানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
প্রতিশ্রুতি পূরণ ও প্রত্যাশার ব্যবস্থাপনা
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, যা জনগণের মধ্যে উচ্চ প্রত্যাশা তৈরি করেছে। তবে এই প্রত্যাশা রাতারাতি পূরণ করা সম্ভব নয়। সরকারের উচিত হবে পরিষ্কারভাবে জানানো যে ভবিষ্যতে কী কী উন্নয়ন কাজ করা হবে। দলটির কাছে জাদুর কাঠি নেই, তাই বড় সমস্যাগুলোর সমাধান ধাপে ধাপে করতে হবে। প্রত্যাশার ব্যবস্থাপনা করার জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করা জরুরি, যেমন আগামী পাঁচ বছরে কোন কাজগুলো করা হবে তা স্পষ্টভাবে বলা উচিত।
বাজেট তৈরির রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত
আগামী বাজেট তৈরির রুটিন কাজ অর্থ মন্ত্রণালয় করলেও, ইশতেহারের বিষয়গুলো বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করার মতো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত সরকারকেই নিতে হবে। বিএনপি ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বের হওয়ার কথা বলেছে, যা বাজেট ঘাটতি সীমিত রাখার দাবি করে। সীমিত বাজেটে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব হবে, তা ভাবনার বিষয়।
অর্থনৈতিক সংস্কারের অগ্রাধিকার
সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি, পরিবার কার্ড, কৃষক কার্ডের মতো সামাজিক সুবিধার অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে। আর্থিক খাত, বিশেষ করে ব্যাংকিং সেক্টরের সংস্কার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কাঠামোগত পরিবর্তন, এবং বাণিজ্য শৃঙ্খলের উন্নতি অত্যন্ত জরুরি। বন্দর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বিদেশি চুক্তি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াও নতুন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে।
বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো
নির্বাচন পরবর্তী অনিশ্চয়তা কেটে গেলেও, বিনিয়োগকারীরা ব্যবসার অন্যান্য সমস্যা সমাধান দেখতে চাইবেন। আগামী ১০০ দিনের মধ্যে ইতিবাচক সংকেত দিলে অর্থনীতি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে পারে। নতুন সরকারের সফলতা অনেকটাই নির্ভর করবে বাজেট ও প্রতিশ্রুতি পূরণের উপর।
