সামুদ্রিক মাছের সুষ্ঠু প্রজনন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং টেকসই মৎস্য আহরণ নিশ্চিত করতে চলতি বছর ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত দেশের সমুদ্রসীমায় ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে সরকার।
এ সময়ে উপকূলীয় জেলেদের খাদ্য সহায়তা হিসেবে ৩ লাখ ১২ হাজার ৫০০ পরিবারের মধ্যে মোট ২৪ হাজার ১৬৫ দশমিক ৬২৫ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
নিষেধাজ্ঞার আওতা ও বাস্তবায়ন
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের ১৪টি উপকূলীয় জেলার ৬৭টি উপজেলা এবং চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল। এ সময় সব ধরনের বাণিজ্যিক ট্রলারের সমুদ্রে যাত্রা বন্ধ রাখা হয়। পাশাপাশি বরফকলগুলোতে নিয়ন্ত্রিতভাবে বরফ উৎপাদনের ব্যবস্থা করা হয়। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে বিভাগভিত্তিক মনিটরিং কমিটি গঠন এবং মৎস্য অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়।
সচেতনতামূলক কার্যক্রম
নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ৬০টি টাস্কফোর্স কমিটির সভা এবং ২৬০টি সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা হয়। এছাড়া ১২ হাজার ৬৭৮টি ব্যানার ও পোস্টার স্থাপন এবং ৬৮ হাজার ৭৫টি লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।
জেলেদের খাদ্য সহায়তা
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলেদের সহায়তায় ১৪ জেলার ৬৯টি উপজেলায় প্রতিটি পরিবারকে প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়। এ কর্মসূচির পরিবহণ ব্যয় বাবদ ৬০ লাখ ৪১ হাজার ৪০৬ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা ও অভিযান
নিষেধাজ্ঞার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে ৩ হাজার ৫০২টি অভিযান এবং ৫৮টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। একই সময়ে ২ হাজার ৪৩৮টি অবতরণ কেন্দ্র, ৯ হাজার ১৫১টি মাছঘাট, ১৭ হাজার ৫৮৫টি আড়ৎ এবং ১৬ হাজার ৪৯৪টি বাজার পরিদর্শন করা হয়।
অভিযানে ১ হাজার ১৯০ দশমিক ৬০ মেট্রিক টন মাছ এবং ৫৪৩ দশমিক ৪৭ লাখ মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়। এছাড়া ৪৮টি মামলা দায়ের, ৪৫ লাখ ৯৪ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা আদায় এবং ২৬ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। জব্দ করা মালামাল নিলামে বিক্রি করে প্রাপ্ত ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৬০০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
সমন্বিত উদ্যোগের সাফল্য
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মৎস্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ, জেলা প্রশাসন এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগে কর্মসূচিটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের মতে, এ ধরনের বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনা সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ও মজুদ বৃদ্ধির পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জেলেদের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



