লক্ষ্মীপুরে মেয়র প্রার্থীর বিরুদ্ধে নারী মারধরের অভিযোগ, ভিডিও ভাইরালে গ্রেপ্তার
লক্ষ্মীপুর জেলায় একাধিক নারীকে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, মাঝবয়সী এক ব্যক্তি একের পর এক নারীকে চুল টেনে ধরে কিল-ঘুষি দিচ্ছেন। মারধরের শিকার নারীরা চিৎকার করে বাঁচতে চাইছিলেন। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন আফতাব উদ্দিন ভূঁইয়া, যিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা এবং সম্প্রতি লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন।
গ্রেপ্তার ও মামলার বিবরণ
ভিডিওটি গত শনিবার ব্যাপকভাবে ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদ পারভেজ জানান, ভিডিওটি নজরে আসার পরপরই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। একই দিন বিকেলে আফতাব উদ্দিন ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং সন্ধ্যায় তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী ইসমাইল হোসেন নারী নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির মামলা করেন। এই মামলায় আফতাব উদ্দিন ছাড়াও ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রেখেছে এবং শিগগিরই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
ঘটনার পটভূমি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনার পেছনে জমি নিয়ে বিরোধ জড়িত। পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাহাপুর গ্রামের চাঁনগাজী হাওলাদার বাড়ির ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে আফতাব উদ্দিনের জমি নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। এর জের ধরে গত ৯ এপ্রিল আফতাব কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে ইসমাইলের বাড়িতে হামলা চালান। এই হামলার সময় ইসমাইলের পরিবারের নারী সদস্যদেরও তিনি মারধর করেন। ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন এবং তাদের সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আফতাব উদ্দিন পৌর এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাহাপুর গ্রামের মৃত ছিদ্দিক উল্যার ছেলে। তিনি একসময় পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন। সম্প্রতি তিনি লক্ষ্মীপুর পৌরসভা মেয়র পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে এলাকায় পোস্টার সাঁটিয়েছেন এবং নিজেকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে পরিচয় দেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতারা দাবি করেন যে, আফতাব একসময় ইসলামী ছাত্রশিবির করলেও বর্তমানে রাজনীতিতে তিনি সক্রিয় নেই। পৌর জামায়াতের আমির আবুল ফারাহ নিশান বলেন, আফতাব উদ্দিন একসময় পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি ছিলেন, এরপর তিনি দেশের বাইরে চলে যান এবং এখন সক্রিয়ভাবে জামায়াতের রাজনীতি করেন না।
নারীদের মারধরের বিষয়ে আবুল ফারাহ মন্তব্য করেন, ‘ভিডিওটি আমরাও দেখেছি। এটি অত্যন্ত অনুচিত হয়েছে। আফতাব ঠিক কাজ করেননি। এ ধরনের আচরণ কারও জন্য কাম্য নয়।’ এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে বলে মনে করা হচ্ছে।



