৮০০ বছরের মেজর ওক গাছের মৃত্যু: ভালোবাসাই কি কাল হলো?
৮০০ বছরের মেজর ওক গাছের মৃত্যু: ভালোবাসাই কাল?

হাজার বছরের সাক্ষী মেজর ওকের পতন

ইংল্যান্ডের শেরউড ফরেস্টের বিখ্যাত মেজর ওক গাছটি গত জুনে মারা গেছে। ব্রিটেনের পাখি ও প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা আরএসপিবি এই খবর নিশ্চিত করেছে। প্রায় ৮০০ থেকে ১২০০ বছর বয়সী এই গাছটি ইউরোপের প্লেগ মহামারী, ইংল্যান্ডের রাজকীয় যুদ্ধ এবং কিংবদন্তি বনদস্যু রবিন হুডের সাক্ষী ছিল।

নামকরণ ও কিংবদন্তি

মেজর ওক নামটি এসেছে আঠারো শতকের শেষ দিকের সেনা কর্মকর্তা মেজর হেইম্যান রুকের কাছ থেকে। তিনি চাকরি শেষে শেরউড ফরেস্টের কাছে বসবাস শুরু করেন এবং প্রথম এই গাছের ছবি এঁকে এর গল্প লিপিবদ্ধ করেন। গাছটির কাণ্ডের ঘের ৩৬ ফুট, ভেতরে বিশাল ফাঁপা জায়গা ছিল। কিংবদন্তি অনুযায়ী, রবিন হুড এই ফাঁপা কাণ্ডে লুকিয়ে থাকতেন এবং লুটের সম্পদ রাখতেন।

ভালোবাসাই যেভাবে মৃত্যুর কারণ হলো

বছরের পর বছর লাখ লাখ পর্যটকের পদচারণায় গাছের গোড়ার মাটি এত শক্ত হয়ে গিয়েছিল যে চার ফুট গভীর পর্যন্ত মাটি পাথরের মতো জমে গিয়েছিল। আর্বারিস্ট রেগ হ্যারিস বলেন, এই মাটি গাছের জন্য 'শত্রু' হয়ে উঠেছিল। শিকড় আর পানি বা খাবার টানতে পারছিল না।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভুল যত্নের ইতিহাস

প্রায় ১২০ বছর আগে ঝড়ে গাছের গায়ে ক্ষত হলে সিসার পাতলা পাত লাগানো হয়। পরে তা ফাইবার গ্লাস দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়। ১৯০৪ সালে কামাররা লোহার রড ও ব্রেস দিয়ে ডালপালা ধরে রাখার ব্যবস্থা করে, যা পরে গাছের জন্য ক্ষতিকর প্রমাণিত হয়। সত্তরের দশকে গাছের চারপাশে বেড়া দেওয়া হয় এবং বড় কাঠের খুঁটি বসানো হয়। ২০০০ সালে সিমেন্টের পায়াযুক্ত লোহার খুঁটি বসানো হয়, যা আরও মাটির ক্ষতি করে। পরে কাঠের গুঁড়া ছড়ানো হয়, যাতে আর্মিলারিয়া নামক ক্ষতিকর ছত্রাক জন্মায়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শেষ সময়

২০২৫ সালে গাছের গায়ে ডেনড্রোমিটার যন্ত্র লাগানো হয়, যা হার্ট মনিটরের মতো কাজ করে। সেই যন্ত্রে গাছের শরীরে 'ক্ষীণ কিছু স্পন্দন' ধরা পড়ে। এই বসন্তে কোনো শাখায় নতুন পাতা বা কুঁড়ি দেখা যায়নি। শেরউড ফরেস্ট এস্টেটের তত্ত্বাবধায়ক ক্লোয়ি রাইডার বলেন, শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করেও গাছের মুকুটে কোনো প্রাণের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

মৃত্যুর পরেও অমর

মেজর ওক এখন রোদে শুকিয়ে যাচ্ছে, কাণ্ডের রং সাদা হয়ে আসছে। তবু পর্যটকরা আসা বন্ধ করবেন না। শেরউড আউটল'স দলের রব ব্র্যাকলি বলেন, তিনি এখনো মানুষকে নিয়ে আসবেন এই জায়গায়, যাকে তিনি রবিন হুডের 'আত্মিক বাড়ি' বলেন। হ্যারিসের মতে, মরে গেলেও মেজর ওকের হাজার হাজার একর্ন বা বীজ পুরো ব্রিটেনে ছড়িয়ে গেছে, যা থেকে নতুন চারা গজাচ্ছে।