জ্বালানি সংকটের কারণে ফিলিং স্টেশনগুলোতে এখনও লম্বা লাইন ও দীর্ঘ অপেক্ষার সময় দেখা যাচ্ছে, যদিও আগের দিনের তুলনায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। আগে যেখানে গ্রাহকদের পুরো একদিন অপেক্ষা করতে হতো, সেখানে এখন অনেক জায়গায় অপেক্ষার সময় কমে প্রায় এক থেকে তিন ঘণ্টায় নেমে এসেছে। কিছু স্টেশনে গ্রাহকরা আরও কম সময়ে জ্বালানি পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
সরবরাহ অপর্যাপ্ত, বাড়ানোর দাবি
পাম্প মালিকরা বলছেন, বর্তমান সরবরাহ সারাদিন স্টেশন চালু রাখার জন্য যথেষ্ট নয়। তারা আরও বলেন, সরকার যদি জ্বালানি সরবরাহ সামান্য বাড়িয়ে দেয়, তাহলে দীর্ঘ লাইন অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে।
বেশ কয়েকটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, ট্রাস্ট, মেঘনা ও সুমাত্রা পাম্পে লাইন তুলনামূলকভাবে লম্বা রয়েছে, যেখানে গ্রাহকদের এখনও এক থেকে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তবে অন্যান্য স্টেশনে লাইন ছোট এবং অপেক্ষার সময় কম।
গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা
শনিবার বিকেলে নিকুঞ্জ মডেল সার্ভিস সেন্টার থেকে জ্বালানি কিনেছেন সরফরাজ হোসেন। তিনি বলেন, “আমি বিকেল ৫টায় লাইনে দাঁড়াই এবং ২৫ মিনিটের মধ্যে জ্বালানি পাই।” তবে কিছু গ্রাহক ৩৫ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন বলে জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, উত্তরা মাসুদ হাসান পাম্পে নাঈম হোসেন বলেন, তিনি ফুয়েল পাস ব্যবহার করে ট্যাঙ্ক ভরাতে পেরেছেন এবং সেখানে লাইন তুলনামূলকভাবে ছোট ছিল। বিপরীতে, গাবতলীর এসপি ফুয়েল পাম্পে দুপুর ২টার দিকে প্রায় ৫০-৬০ জন লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং গ্রাহকদের জ্বালানি পেতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লেগেছে।
সামগ্রিকভাবে, ঢাকার জ্বালানি স্টেশনগুলোর পরিস্থিতি আগের দিনের তুলনায় কিছুটা উন্নত হয়েছে এবং অপেক্ষার সময় কমেছে।
পাম্প মালিক সমিতির বক্তব্য
পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। মোটরসাইকেলের লাইন কমলেও সামগ্রিক চাপ এখনও রয়েছে। অকটেনের ঘাটতি দূর হয়েছে এবং ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আতঙ্ক এখনও কাটেনি। ফলে মানুষ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি জ্বালানি কিনছে। যারা আগে ২০০ টাকার জ্বালানি কিনতেন, তারা এখন ১,২০০ থেকে ১,৩০০ টাকার কিনছেন। এতে সরবরাহ দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। অকটেনের ঘাটতি কিছুটা কমলেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ডিজেলের চাহিদা বেড়েছে। অনেক কারখানা জেনারেটর চালাচ্ছে, যার জন্য ডিজেল প্রয়োজন। এই কারণে এখন ডিজেল সরবরাহ বাড়ানো জরুরি।”
সরকারের অবস্থান
এর আগে বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জ্বালানি সংকটকে ‘কৃত্রিম সংকট’ বলে বর্ণনা করেন। মজুতের তথ্য উপস্থাপন করে তিনি বলেন, “ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল, জেট ফুয়েল, মেরিন ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।”
মন্ত্রী আরও দাবি করেন, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তার মতে, কিছু অসাধু ব্যক্তি লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি কিনে পরে অনানুষ্ঠানিক বাজারে বিক্রি করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, যার ফলে প্রকৃত ভোক্তারা সমস্যায় পড়ছেন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আনিন্দ্য ইসলাম সংসদে বলেন, অকটেন ও পেট্রোল দেশের মোট জ্বালানি ব্যবহারের একটি ছোট অংশ। তাই ফিলিং স্টেশনের লম্বা লাইন দেখে সামগ্রিক জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা বিভ্রান্তিকর হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরবরাহের ফাঁক কাজে লাগিয়ে একটি ‘অনানুষ্ঠানিক বাজার’ তৈরি হয়েছে। সরকার দায় এড়াতে চায় না বরং সমাধানের দিকে কাজ করছে। “আমরা জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, গণমাধ্যমকর্মী ও অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করছি,” বলেন প্রতিমন্ত্রী, বিষয়টি সমাধানের চলমান প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়ে।



