চট্টগ্রামে ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলীখেলার ১১৭তম আসর শনিবার, তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা শুরু হচ্ছে
জব্বারের বলীখেলার ১১৭তম আসর শনিবার চট্টগ্রামে

চট্টগ্রামে ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলীখেলার ১১৭তম আসরের আয়োজন সম্পূর্ণ

চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বারের বলীখেলার ১১৭তম আসর আগামী শনিবার (২৫ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই বিশেষ অনুষ্ঠানের সাথে সমন্বয় করে তিন দিনব্যাপী একটি বৈশাখী মেলারও আয়োজন করা হয়েছে, যা ২৪ এপ্রিল থেকে শুরু হবে। খেলা ও মেলা আয়োজনের সকল প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন করে ফেলেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত প্রকাশ

বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের লাইব্রেরি অডিটোরিয়ামে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এই সম্মেলনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন সকল বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, "আমি ইতিহাস-ঐতিহ্যের কথা মাথায় রেখে চত্বরটিকে নতুন রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এ মেলা চট্টগ্রামের সব ধরনের মানুষের প্রাণের মেলা।"

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আয়োজক কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক আবদুল জব্বারের নাতি শওকত আনোয়ার বাদল। এই অনুষ্ঠানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেওয়া হয় যে, লালদীঘি চত্বরকে এখন থেকে খেলা ও মেলার প্রতিষ্ঠাতা আবদুল জব্বারের নামে 'আবদুল জব্বার চত্বর' হিসেবে অভিহিত করা হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নতুন ম্যুরাল ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

লালদীঘিরপাড়ে চৌরাস্তার মোড়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন একটি টেরাকোটা ত্রিভুজ আকৃতির ম্যুরাল স্থাপন করেছে। এই ম্যুরালে বলী বা কুস্তি প্রতিযোগীদের লড়াইয়ের একটি জীবন্ত দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে এই ম্যুরালটি উদ্বোধন করেন।

এই বলীখেলার সূচনা হয়েছিল ১৯০৯ সালে, যখন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যুবকদের শারীরিকভাবে প্রস্তুত করতে আবদুল জব্বার সওদাগর এই খেলার প্রবর্তন করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় যুগের পর যুগ ধরে এটি চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান লোকজ উৎসবে পরিণত হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আয়োজনের বিস্তারিত তথ্য

১১৭তম জব্বারের বলীখেলায় উদ্বোধক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান উপস্থিত থাকবেন।

এসএসসি পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এবারের মেলার সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। মেলা ২৬ এপ্রিল রোববার ভোরের মধ্যে শেষ হবে, যা পূর্বের পরিকল্পনার চেয়ে কিছুটা সংক্ষিপ্ত।

নিরাপত্তা ও অন্যান্য ব্যবস্থা

মেলা ও বলীখেলা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সিএমপি ও র্যাবের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে:

  • সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন
  • ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ
  • ড্রোন নজরদারি ব্যবস্থা
  • সোয়াত ও বোম ডিসপোজাল ইউনিট মোতায়েন

এছাড়াও সম্ভাব্য যে কোনো দুর্ঘটনা মোকাবিলায় মেডিকেল টিম ও ফায়ার সার্ভিস প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আশা করছে যে এই সকল ব্যবস্থা অনুষ্ঠানটি নিরাপদ ও সফলভাবে সম্পন্ন করতে সহায়তা করবে।

চট্টগ্রামের এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবটি কেবল একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি শহরের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে দূরদূরান্তের দর্শকরা এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ঐতিহ্যবাহী বলীখেলার উত্তেজনা উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।