ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স: শুধু চিনিই নয়, দায়ী আরও ৫ অভ্যাস
অনেকের ধারণা, রক্তে শর্করা বাড়ার একমাত্র কারণ চিনি বা মিষ্টি খাবার। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, প্রতিদিনের কিছু খাদ্যাভ্যাসও ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। ডায়াবেটিস না থাকলেও ‘ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স’ নামক অবস্থার কারণে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের কারণে শরীরে ইনসুলিন হরমোন ঠিকমতো কাজ করে না। অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন তৈরি হলেও তা কোষে শর্করা প্রবেশ করাতে ব্যর্থ হয়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ অভিজ্ঞান মাঝি বলেন, “ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বংশগত বা অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের কারণে হতে পারে।”
পাঁচ ক্ষতিকর অভ্যাস
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিরাগ টন্ডন বলেন, “প্রতিদিনের জীবনযাপনের জন্যই ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়ছে। অজান্তেই কিছু অভ্যাস ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।” নিচে সেই পাঁচটি অভ্যাস তুলে ধরা হলো:
১. খালি পেটে চিনি দেওয়া চা ও বিস্কুট: বেশিরভাগ পরিবারে সকাল শুরু হয় চিনি দেওয়া দুধ চা ও বিস্কুট দিয়ে। খালি পেটে এগুলো খেলে রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যায়। পরিবর্তে প্রোটিন ও ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পর চা পান করা উচিত।
২. কার্বোহাইড্রেট বেশি ও প্রোটিন কম খাবার: রুটি, পাউরুটি, পরোটা—এগুলোতে কার্বোহাইড্রেট বেশি কিন্তু প্রোটিন ও ফাইবার কম। এতে রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যায়। প্রোটিন ও ফাইবার শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
৩. আইসক্রিম, পেস্ট্রি ও ভাজাপোড়া: এসব খাবারে ক্যালোরি বেশি, যা ওজন বাড়ায়। স্থূলতা হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি করে।
৪. দেরিতে রাতের খাবার: রাত ১১টা, ১২টা বা তার পরেও খাওয়ার অভ্যাস হজমের সমস্যা ও বিপাকীয় স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে। খাওয়ার পরপরই ঘুমালে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি বাড়ে।
৫. প্রক্রিয়াজাত খাবার: চিনি, ময়দা ও ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
প্রতিকার ও সতর্কতা
চিকিৎসকদের মতে, সকালের নাস্তায় প্রোটিন ও ফাইবার যুক্ত খাবার রাখা, রাতে তাড়াতাড়ি খাওয়া, এবং ভাজাপোড়া ও মিষ্টি এড়িয়ে চলা জরুরি। ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের কারণে ওজন বেড়ে যাওয়া, ত্বকের রং কালো হয়ে যাওয়া, ক্লান্তি ও ঋতুচক্রে সমস্যা হতে পারে। তাই অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে ঝুঁকি কমানো সম্ভব।



