বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের প্রথম থেকেই ক্যারিয়ার পরিকল্পনা শুরু করা উচিত
বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের প্রথম থেকেই ক্যারিয়ার পরিকল্পনা শুরু করুন

বর্তমান বাংলাদেশের চাকরির বাজার একটি বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কয়েক বছর আগেও যেখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি অনেক ক্ষেত্রে ভালো চাকরির নিশ্চয়তা দিত, সেখানে এখন নিয়োগদাতারা ডিগ্রির পাশাপাশি বাস্তব দক্ষতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান, নতুন নতুন চিন্তাধারা, উত্তম যোগাযোগদক্ষতা এবং দ্রুত সমস্যা সমাধানের সক্ষমতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিস্তার এবং ব্যবসার ডিজিটাল রূপান্তর কর্মক্ষেত্রের বাস্তবতা ও কাঠামো বদলে দিচ্ছে।

চাহিদা বাড়ছে যেসব খাতে

বর্তমানে বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, সাইবার সিকিউরিটি, ডেটা অ্যানালিটিকস, ফিনটেক, ডিজিটাল মার্কেটিং, সাপ্লাই চেইন, স্বাস্থ্যসেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং বিপিও খাতে দক্ষ জনবলের চাহিদা বাড়ছে। আগামী ৫ থেকে ১০ বছরে এআই ব্যবস্থাপনা, ডেটা সায়েন্স, ক্লাউড কম্পিউটিং, বিজনেস অ্যানালিটিকস, ইউআই/ইউএক্স ডিজাইন এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবা খাত আরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।

এআই প্রতিস্থাপন নয়, সহায়ক

একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, এআই অনেক কাজ সহজ করে দিলেও দক্ষ মানুষকে কিন্তু প্রতিস্থাপন করতে পারবে না। যাঁরা এআই ব্যবহার করে দ্রুত ও ভালোভাবে কাজ করতে পারবেন, তাঁরাই ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে এগিয়ে থাকবেন। তাই শিক্ষার্থীদের উচিত, শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রযুক্তি, যোগাযোগদক্ষতা, ইংরেজি ভাষা, উপস্থাপনা কৌশল এবং ডিজিটাল টুলস ব্যবহারে নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তোলা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ক্যারিয়ার পরিকল্পনা শুরু হোক বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই

ক্যারিয়ার পরিকল্পনা শুরু হওয়া উচিত বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের প্রথম থেকেই। কোন খাতে কাজ করতে চান, সেই লক্ষ্য নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন, ইন্টার্নশিপ করা, পেশাগত নেটওয়ার্ক তৈরি এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের চেষ্টা করতে হবে। বর্তমানে খুবই সামান্য বিনিয়োগে অনলাইন ও অফলাইনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ নেওয়া যাচ্ছে খুব সহজেই। এই ছোট ছোট প্রশিক্ষণগুলো দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি ক্যারিয়ারে বিশেষ মাত্রা যোগ করতে পারে।

বিকল্প আয়ের পথ তৈরি করা জরুরি

তবে শুধু চাকরির জন্য অপেক্ষা না করে বিকল্প আয়ের পথও তৈরি করা প্রয়োজন। বর্তমান সময়ে ফ্রিল্যান্সিং, ই-কমার্স, অনলাইন সেবা, কনটেন্ট ক্রিয়েশন, অ্যাডটেক এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হওয়া তরুণদের জন্য নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে। অনেকেই চাকরির পাশাপাশি এখন ছোট পরিসরে ব্যবসা শুরু করছেন, আবার কেউ কেউ পড়াশোনা শেষ করেই উদ্যোক্তা হিসেবে যাত্রা শুরু করছেন। সঠিক পরিকল্পনা, বাজার সম্পর্কে ধারণা এবং ধৈর্য থাকলে ব্যবসাও একটি শক্তিশালী ক্যারিয়ার হতে পারে।

ভবিষ্যতের সফল মানুষের বৈশিষ্ট্য

মনে রাখতে হবে, ভবিষ্যতের সফল মানুষেরা শুধু চাকরি খুঁজবেন না, তাঁরা নতুন নতুন দক্ষতা অর্জন করবেন, সুযোগ সৃষ্টি করবেন এবং পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেবেন। তাই আজকের শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য হওয়া উচিত, একটি ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি নিজেকে এমন দক্ষভাবে গড়ে তোলা, যা তাঁদের চাকরি, ফ্রিল্যান্সিং কিংবা উদ্যোক্তা—যেকোনো পথে সফল হতে সাহায্য করবে।

লেখক: মানব সম্পদ উন্নয়ন প্রফেশনাল