রুবামা রহমান তার বাবার আদরের সুকন্যা। বাবা তাকে ‘রু’ বলে ডাকেন, যা ফরাসি ভাষায় ‘রাস্তা’ অর্থে ব্যবহৃত হয়। তার জন্ম ১৯৯৯ সালের ২১ জানুয়ারি ঢাকার ধানমন্ডির ‘দ্য মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার সেন্টারে’। তিনি সিজারিয়ান বেবি। জন্মের পর নার্স বাবা ও খালাত বোন জেসিকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন কী বাচ্চা চান; তারা মেয়ে চান বলে নার্স তাকে দেন।
কানাডায় অভিবাসন
বাবা দীর্ঘদিন ধরে স্কিল্ড ক্যাটাগরিতে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। রুবামার জন্মের পরই তারা ইন্টারভিউ পেয়ে ভিসা পান। ২০০০ সালের আগস্টে, তার জন্মের মাত্র ১৯ মাস পর, তারা ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের বিমানে করে টরন্টোতে পাড়ি জমান। বিমানে রুবামা কান্নাকাটি করলে বাবা তাকে কোলে নিয়ে বিমানের পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
দাদির স্মৃতি
কানাডায় আসার এক বছর পর দাদি এসেছিলেন। দেশে ফেরার সময় বাবা অনেক কেঁদেছিলেন। কয়েক মাস পর দাদি মারা যান, যা বাবাকে ভীষণ কষ্ট দেয়।
শিক্ষাজীবন
রুবামা ধাপে ধাপে পড়াশোনা করে ইউনিভার্সিটি অব ওয়াটারলুতে ভর্তি হন। তার বড় ভাইও একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন। বাবা কঠোর শাসনে তাদের পড়াশোনা করাতেন এবং প্রায় ৩০০ বার ক্যাম্পাসে গিয়ে পিক আপ ও ড্রপ অফ করতেন, কখনো খাবার পৌঁছে দিতেন।
সঙ্গীত ও শখ
বাবা কিশোর কুমারের ভক্ত ছিলেন এবং গাড়িতে সব সময় তার গান বাজাতেন। তিনি রুবামাকে বেহালা ও তার ভাইকে পিয়ানো শেখার জন্য স্কুলে ভর্তি করান। বাবার আরেকটি শখ হলো বাগান করা। তিনি ফ্রন্ট ইয়ার্ডে ফুলের গাছ লাগান এবং প্রতি গ্রীষ্মে লাউ চারা উৎপাদন করে বাংলাদেশি দোকানে বিক্রি করে অর্থ দান করেন।
চাকরি ও অবসর
বিশ্ববিদ্যালয় শেষে রুবামা চাকরি পেতে সংগ্রাম করছিলেন। বাবা তাকে প্রতিদিন কমপক্ষে ৫০টি রিজুমি পাঠাতে বলতেন। শেষ পর্যন্ত চাকরি পেলে বাবা সিলভার স্পুন রেস্তোরাঁ থেকে খাবার অর্ডার করে সবাইকে খাওয়ান। বাবা নিজে কানাডায় এসে ফেডারেল গভর্নমেন্টের পাবলিক সার্ভিসেসে যোগ দেন এবং ২০ বছর কানাডা রেভিনিউ এজেন্সিতে চাকরি করে সম্প্রতি অবসর নিয়েছেন।
বাবার ভালোবাসা
বাবার ডায়াবেটিস আছে এবং বয়স বাড়ছে। রুবামা বাবার পুরনো ছবি দেখে বলেন, ‘আমি আগের বাবা চাই।’ বাবা হেসে বলেন, ‘আমিও সেই আগের ছোট্ট রু’কে চাই।’ সম্প্রতি বাবা তাকে ২০২৭ থেকে ২০৪০ সাল পর্যন্ত ১৪টি অগ্রিম জন্মদিনের কার্ড দিয়েছেন, প্রতিটি বছরের ২১ জানুয়ারি খোলার জন্য। রুবামা জিজ্ঞাসা করেন, ‘বাবা কি ২০৩৯ পর্যন্ত থাকবেন না?’ বাবা বলেন, ‘হায়াত মউতের কথা কি বলা যায়? আল্লাহ রাখলে থাকব। আর না থাকলে মনে কষ্ট নিও না। যখন আমাকে মিস করবে, রাতের আকাশে তারার মাঝে খুঁজবে। বাবা সব সময় তোমার সঙ্গেই আছে।’



