গ্রামীণ সন্ধ্যায় এক সাংবাদিকের স্মৃতিময় অভিজ্ঞতা
একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান প্রায় শেষের দিকে, সন্ধ্যা নামার কিছুক্ষণ আগে, লেখক দীপুকে প্রস্তাব দিলেন তাদের এলাকার আশপাশ ঘুরে দেখার। বের হয়ে ওদের বাড়ি থেকে কয়েক কদম সামনে হাঁটার পর ফিরতি পথে একটি সুন্দর বাড়ি চোখে পড়তেই দাঁড়িয়ে গেলেন। বাড়ির মালকিন সামনেই ছিলেন, অনুমতি নিয়ে বাড়িটির ছবি তুললেন লেখক।
গ্রামের স্মৃতি জাগানো দৃশ্য
লেখকের চোখে যে বাড়িটি অত্যন্ত সুন্দর লাগছিল, সেই বাড়িটিই মালকিনের কাছে সংকোচের বিষয় মনে হচ্ছিল। বাড়িটির মধ্যে লেখক তার নিজ গ্রামের অনেক কিছু খুঁজে পেয়েছিলেন। টিনের চালের ঘর, চারপাশের গাছপালা, সন্ধ্যা হয়ে আসায় মুরগিগুলো খোঁয়াড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি—এই দৃশ্যগুলো তাকে প্রবলভাবে আকর্ষণ করছিল, কারণ তিনি গ্রামেই বড় হয়েছেন। অন্ধকার হয়ে আসায় দেরি না করে তারা সেখান থেকে বিদায় নিলেন।
চায়ের দোকানে আড্ডা ও আতিথেয়তা
সামনেই একটি চায়ের দোকান ছিল। দীপু ও জুলিকে আগেই জানানো ছিল ফিরতি পথে চা খাওয়া হবে। দোকানটি বরের ঘরের পাশেই অবস্থিত, তাই সময়ের কোনো তাড়া ছিল না। চা অর্ডার করার পরই দেখা গেল দীপু বিল দিতে চাইছে, কারণ লেখক ও জুলি তাদের এলাকার মেহমান। লেখক উঁচু গলায় বিল দিতে বাধা দিলেও দীপু অনড় থাকল।
চায়ের স্বাদ ছিল অসাধারণ। একটু আদা, লেবু আর লবণ মিশ্রিত লাল চায়ের স্বাদ মন ভালো করে দিল। লেখক দোকানি মামাকে চায়ের প্রশংসা করতেই তিনি মুখ নিচু করে মুচকি হাসলেন। দোকানে উপস্থিত অন্যরাও খুশি হলেন, কারণ তারা আগে থেকেই শঙ্কায় ছিলেন যে বাইরের মেহমানদের চা পছন্দ হবে কিনা।
গোলগোল্লার লোভ ও স্থানীয় আচরণ
চা শেষ করে উঠতেই পাশের দোকানে লোভনীয় গোলগোল্লা বানানো দেখে লেখকেরও লোভ হলো। তবে উদরপূর্তি অবস্থায় স্বাদ ঠিকমতো পাওয়া যাবে কিনা, তা নিয়ে শঙ্কা ছিল। দোকানিকে জিজ্ঞেস করলেন রাতেও পাওয়া যাবে কিনা, সময় জেনে নিলেন। রাতে আবার ফিরে এসে গোলগোল্লা নিলেন, তখন দীপুর বোনও সাথে ছিলেন।
খাওয়া শেষ না হতেই আবার কেউ বিল দিয়ে দিল। পাশেই একজন দাবা খেলছিলেন, তিনি দাবা নিয়ে কিছু পোজ দিলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন লেখক খারাপ চোখে দেখছেন কিনা। লেখক উত্তর দিলেন, এটি তাদের সংস্কৃতির অংশ এবং দেখতেও বেশ আকর্ষণীয়।
স্মৃতিতে ধরে রাখার মুহূর্ত
গোলগোল্লা খেতে এত মজা লাগছিল যে লেখক ভাবলেন বান্ধবীর জন্যও দুটি নিয়ে যাবেন। কিন্তু সমস্যা হলো, যা অর্ডার করতেন তা শেষ হওয়ার আগেই কেউ না কেউ বিল দিয়ে দিতেন। ভাগ্যবশত তাদের জন্য যেগুলো নেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে একটি বেঁচে গিয়েছিল, সেটি প্যাক করে নিলেন।
সময় যাওয়ার সাথে সাথে রাস্তায় ঠান্ডার মাত্রা বাড়ছিল, তাই ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। রুমে ফিরে চিতপটাং হয়ে শুয়ে পড়লেন। গল্প-আড্ডা আর খাওয়া-দাওয়ার মধ্যে দিয়ে সময় কেটে গেল। সকালে বাস ধরতে হবে ভেবে ব্যাগ গোছগাছ করে ঘুমানোর মাধ্যমে এই সুন্দর দিনটির ইতি টানতে হলো।
লেখক মনে মনে কামনা করলেন, এই সুন্দর সময়গুলো স্মৃতি হিসেবে থাকুক এবং ভবিষ্যতে আরও এমন সুন্দর মুহূর্ত কাটানোর সুযোগ তৈরি হোক। এই অভিজ্ঞতা তাকে গ্রামীণ জীবনের সরলতা ও আতিথেয়তার গভীরতা সম্পর্কে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে।
