বড় প্রকাশকদের অংশগ্রহণ ছাড়াই শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা-২০২৬
দেশের বড় বড় প্রকাশনীসহ সাড়ে তিনশ প্রকাশনীর অংশগ্রহণ ছাড়াই আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাচ্ছে অমর একুশে বইমেলা-২০২৬। 'প্রকাশক ঐক্য' নামে নতুন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত এসব প্রকাশকের দাবি, তাদের বাদ দিয়েই মেলার আয়োজন করছে বাংলা একাডেমি। তবে এত বড় সংখ্যক প্রকাশনী বাইরে থাকার বিষয়ে কোনও দায় নিচ্ছে না প্রতিষ্ঠানটি।
বাংলা একাডেমির অবস্থান: শুধু নির্দেশ পালন
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম জানিয়েছেন, "প্রকাশকদের মতামত নিয়েই আমরা তারিখ নির্ধারণ করেছিলাম। এটা সরকার ও প্রকাশকদের যৌথ সিদ্ধান্ত। বাংলা একাডেমি শুধু ক্যারি করছে মাত্র। সরকারি সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।" তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার এবং নতুন সরকার উভয়ই ফেব্রুয়ারিতে মেলা আয়োজনে আগ্রহী ছিল।
প্রকাশকদের মধ্যে বিভক্তি ও বাপুসের ভূমিকা
মেলায় অংশগ্রহণের পক্ষে অবস্থান নেওয়া 'মাতৃভাষা প্রকাশ'-এর স্বত্বাধিকারী নেছার উদ্দিন আইয়ুব বলেছেন, "মেলাটা আয়োজন করে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, বাংলা একাডেমি এবং বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি (বাপুস) মিলে। আমরা বাণিজ্যিক সংগঠন, সরকারের বিপক্ষে যেতে পারি না।" তিনি স্বীকার করেছেন যে প্রকাশকদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি হয়েছে, কেউ মেলায় যাচ্ছেন, কেউ যাচ্ছেন না।
প্রকাশক ঐক্যের তীব্র প্রতিবাদ
মেলায় অংশ না নেওয়া এক প্রকাশক বাংলা একাডেমির বক্তব্যকে নির্জলজ্জ ও মিথ্যাচার বলে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, "ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড, অনন্যা, অন্বেষা, আগামী প্রকাশন, পাঠক সমাবেশ, আনন্দ পাবলিশার্স, কথাপ্রকাশের মতো ঐতিহ্যবাহী প্রকাশনীগুলো নেই। তাহলে কাদের নিয়ে মেলা হচ্ছে?" প্রকাশক ঐক্য দাবি করছে, ঈদের আগে বইমেলা হলে তারা অংশ নেবে না এবং একুশে বইমেলার ঐতিহ্য রক্ষায় ঈদের পর মেলা আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে।
মেলার প্রস্তুতি ও স্টল বরাদ্দ
বাংলা একাডেমি জানিয়েছে, ২০ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধনের জন্য ৯০ শতাংশ প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ইতোমধ্যে ৫১৫ ইউনিট স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রায় ৪০০ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ভাড়া পরিশোধ করেছে। তবে প্রকাশিত তালিকায় ২৯৯টি প্রকাশনীর নাম রয়েছে, যার মধ্যে ১৫০-এর বেশি বাপুসের সদস্য নন এবং ৭০-এর বেশি প্রকাশক গত বইমেলায় অংশ নেননি।
বিতর্কের কেন্দ্রে ঐতিহ্য প্রকাশনী
কয়েকজন প্রকাশক অভিযোগ করেছেন, ঐতিহ্য প্রকাশনী একইসঙ্গে পাঁচটি স্টল পেয়েছে এবং তাদের একক ইশারায় মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মেলায় স্টল নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ইসলামি প্রকাশনীগুলোর প্রাধান্য লক্ষণীয়, যা সৃজনশীল প্রকাশনা শিল্পের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে, প্রকাশক ঐক্য জোর দিচ্ছে যে প্রকাশনা শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষা এবং একুশে বইমেলার ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রাখতে মেলা স্থগিত করে ঈদের পর আয়োজন করা উচিত। অন্যদিকে, বাংলা একাডেমি ও বাপুস সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে মেলা আয়োজনে অটল রয়েছে, যা বইপ্রেমী ও প্রকাশনা জগতে গভীর বিভক্তি সৃষ্টি করেছে।
