চট্টগ্রামের ভাটিয়ারী এলাকায় ভাঙা জাহাজের যন্ত্রাংশ ও আসবাবপত্রের বিশাল বাজার গড়ে উঠেছে। এখানে ফ্রান্সের তৈরি ফ্যান, জাপানের টেলিভিশন, কোরিয়ার ফ্রিজসহ নানা দেশের পণ্য পাওয়া যায় নগণ্য মূল্যে। দোকানিরা বলেন, 'ঘর বানাতে টাকা থাকলেই হবে; বাকি সব ভাটিয়ারীতে পাওয়া যাবে।'
জাহাজের নিলাম থেকে ভাটিয়ারীর দোকান
জাহাজ ভাঙার ইয়ার্ডে পৌঁছানোর কয়েক দিনের মধ্যেই নিলাম হয় জাহাজের সব মালামাল। কাঠামো, আসবাব, বৈদ্যুতিক তার, রান্নাঘরের সরঞ্জাম, ফ্রিজ, টেলিভিশন—সবকিছুই নিলামে ওঠে। বড় ব্যবসায়ীরা সেসব কিনে ট্রাকে করে ভাটিয়ারীর দোকানে আনে। ফলে এই বাজারে হাঁটতে হাঁটতে ফ্রান্স, জাপান, কোরিয়া, গ্রিস—এসব দেশের পণ্য দেখতে পাওয়া যায়।
দামের তালিকা: ফ্যান, টিভি, ফ্রিজ
মাদাম বিবির হাটের কে এম মেরিন দোকানের কর্ণধার খোরশেদ আলম জানান, ফ্রান্সের একটি কোম্পানির ফ্যানের দাম আড়াই হাজার টাকা। এমন ১৭টি ফ্যান রয়েছে তার দোকানে। ৪৩ ইঞ্চি একটি টেলিভিশন ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ওয়াশিং মেশিনের দাম চার হাজার টাকা থেকে শুরু। ছোট আকারের একটি ফ্রিজ আট হাজার টাকায় কিনেছেন ক্রেতা হাসিবুল ইসলাম। তিনি বলেন, 'বাইরে নতুন কিনতে গেলে কয়েক গুণ বেশি খরচ হতো।'
শোপিস ও পুরোনো জিনিসের সমাহার
দোকানগুলোতে কাঠের তৈরি ছোট জাহাজ, পিতলের বাতি, পুরোনো দেয়ালঘড়ি, ফুলদানি, বিদেশি চিত্রকর্ম—এসব শোপিসও পাওয়া যায়। মোহাম্মদ হৃদয়, যিনি ১২ বছর ধরে এই ব্যবসার সঙ্গে আছেন, বলেন, 'অনেকে শুধু জিনিসের পেছনের গল্প শুনতেই আসেন। একেকটা জিনিসের সঙ্গে একেকটা সমুদ্রযাত্রার গল্প জড়িয়ে থাকে।'
ভাটিয়ারীর ইতিহাস
প্রায় ছয় দশক আগে ঘূর্ণিঝড়ে সীতাকুণ্ড উপকূলে আটকে যায় একটি গ্রিক জাহাজ। স্থানীয় লোকজন সেটি ভেঙে মালপত্র উদ্ধার করে। বাণিজ্যিকভাবে জাহাজভাঙা শিল্পের যাত্রা শুরু ১৯৭৪ সালে, যখন কর্ণফুলী মেটাল ওয়ার্কস পাকিস্তানি জাহাজ 'আল আব্বাস' কিনে ভাঙে। তিন দশক ধরে ব্যবসা করা মোহাম্মদ আবদুল হাকিম বলেন, 'বছরের পর বছর ধরে ব্যবসা বড় হয়েছে, ছোট দোকান এখন বিশাল বাজার।'
কেনাকাটার অভিজ্ঞতা
হাসিবুল ইসলামের মতো অনেক ক্রেতা একটি জিনিস কিনতে এসে আরও কয়েকটি কিনে ফেলেন। তিনি বলেন, 'এখানে শুধু একটা জিনিস কিনে যাওয়া কঠিন; কিছু না কিছু চোখে লেগেই যায়।' ভাটিয়ারীতে নতুন একটি ফার্নিচারের সেট ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা হলেও ব্যবহৃত ভালো মানের সেট ২০-৩০ হাজার টাকায় মেলে।



