মে মাসে আমস্টারডামে হ্যারি স্টাইলস তার ‘টুগেদার, টুগেদার’ সফরের উদ্বোধন করেন। সেদিন তিনি নীল রঙের ভাঁজযুক্ত প্যান্ট ও নীল শার্টের সঙ্গে পরেছিলেন রঙিন ফুলের নকশার একটি টাই। এই টাই তার সাজে আলাদা মাত্রা যোগ করেছিল। সেই থেকে কনসার্টে যাওয়া দর্শকদের মধ্যে টাই হয়ে উঠেছে এক গোপন পরিচয়ের ভাষা।
টাইয়ের নতুন ফ্যাশন বিপ্লব
একসময় করপোরেট অফিসকর্মীদের আনুষ্ঠানিক পোশাকের অংশ হিসেবে পরিচিত টাই, হ্যারি স্টাইলসের হাত ধরে এখন ভক্তদের সৃজনশীলতা ও ভালোবাসার প্রতীক হয়ে উঠেছে। গায়ক মঞ্চে নানা ধরনের টাই পরে হাজির হওয়ার পর তাঁর ভক্তরা এই পরিচিত পোশাক-অনুষঙ্গকে নিজেদের মতো করে সাজাচ্ছেন, নতুনভাবে ব্যবহার করছেন এবং এমনকি টাই দিয়ে পুরো পোশাকও তৈরি করছেন।
আমস্টারডামের ওই অনুষ্ঠানের চার দিন পর, একই স্টেডিয়ামে গানের পরিবেশনার মাঝখানে দর্শকদের দিকে তাকিয়ে হ্যারি বলেন, “আজ রাতে দর্শকদের মধ্যে অনেক টাই দেখতে পাচ্ছি। আমি তোমাদের দেখছি, রাণীরা—আমি তোমাদের দেখছি।”
ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে টাইয়ের উন্মাদনা
এরপর লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে তার রেকর্ড গড়া ১২ রাতের বিশেষ কনসার্ট আয়োজনেও টাইয়ের জনপ্রিয়তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দশম রাতের অনুষ্ঠানে প্রবেশের সময় দেখা যায়, টাই যেন নতুন যুগের ‘ফেদার বোয়া’, অর্থাৎ পালকের তৈরি ফ্যাশন অনুষঙ্গের বিকল্প হয়ে উঠেছে। অনেক ভক্ত পরিপাটি করে বাঁধা টাইয়ের সঙ্গে শার্ট পরেছিলেন। কেউ আবার ঝলমলে ভেস্ট টপের ওপর ঢিলেঢালাভাবে টাই ঝুলিয়ে রেখেছিলেন। কেউ বেল্টের পরিবর্তে টাই ব্যবহার করেছেন, কেউ কনসার্টের স্মারক টি-শার্টের সঙ্গে টাই মিলিয়েছেন, কেউ কোমরে টাই বেঁধেছেন, কেউ পনিটেলের চারপাশে টাই পেঁচিয়েছেন। এমনকি কেউ কেউ টাই দিয়ে তৈরি পোশাক ও স্কার্টও পরেছেন।
ভক্তদের হাতে নতুন রূপ পাচ্ছে টাই
হ্যারি স্টাইলসের ভক্তরা এখন পুরোনো টাই খুঁজে বের করছেন, পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে টাই ধার করছেন এবং ব্যবহৃত টাই কিনে নতুন সাজ দিচ্ছেন। অনলাইন বাজার ইবে-এর তথ্য অনুযায়ী, পুরোনো ধাঁচের টাইয়ের খোঁজ বেড়েছে ৩৬৭ শতাংশ। ভক্তরা নিজেদের হাতে টাই নতুনভাবে তৈরি করছেন। বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিক্রেতারা বিক্রি করছেন ব্যক্তিগত নকশায় তৈরি বিশেষ টাই।
হ্যারি স্টাইলসের “লাভ অন ট্যুর” সফরের দুটি অনুষ্ঠানে পালকের তৈরি বোয়া পরেছিলেন গ্রাজিয়া পত্রিকার সম্পাদকীয় সহকারী হুইটনি জোন্স। তিনি বলেন, “আমি কনসার্টভিত্তিক পোশাক পরার বিষয়টি নিয়ে ভীষণ আগ্রহী।” তবে ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামের বিশেষ আয়োজনের জন্য তিনি আরও সৃজনশীল হয়ে ওঠেন। হুইটনি জোন্স ১৮টি টাই দিয়ে একটি সম্পূর্ণ স্কার্ট তৈরি করেন এবং সেই তৈরির প্রক্রিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেন।
টাই থেকে তৈরি হচ্ছে নতুন আয়ের পথ
যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহে বসবাসকারী বিমানবালা অ্যামি ফ্রাইয়ের জন্য টাই সাজানো এখন একটি অতিরিক্ত আয়ের উৎস। মার্চ মাসে স্যাটারডে নাইট লাইভ অনুষ্ঠানে হ্যারি স্টাইলসকে ‘পপ’ লেখা একটি টাই পরতে দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হন। এরপর তিনি পুরোনো ও ব্যবহৃত টাই সংগ্রহ করে তাতে অক্ষর লাগিয়ে নতুন নকশা তৈরি করতে শুরু করেন এবং অনলাইনে বিক্রি শুরু করেন। এখন পর্যন্ত তিনি প্রায় ২০০টি টাই তৈরি করেছেন। অ্যামি বলেন, “এটি ভীষণ মজার, কারণ আমার কাছে বিভিন্ন ধরনের নকশা ও রঙের অনেক টাই থাকে। আর প্রত্যেক মানুষই নিজের পোশাকের সঙ্গে মানানসই করে আলাদা কিছু চায়।”
টাই এখন ভক্তির পরিচয়
হুইটনি জোন্সের মতে, সাজগোজ করে কনসার্টে যাওয়া এখন হ্যারি স্টাইলসের ভক্ত সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি বলেন, “এটি অনেকটা আবার ছোটবেলার মতো অনুভূতি দেয় এবং মনে হয় আপনি একটি সম্প্রদায়ের অংশ হয়ে গেছেন। সবচেয়ে ভালো বিষয় হলো, অনুষ্ঠানের পথে ট্রেন স্টেশন বা প্ল্যাটফর্মে অন্য কনসার্টে যাওয়া দর্শকদের চিনে ফেলতে পারা।” তিনবার হ্যারি স্টাইলসের অনুষ্ঠান দেখা অ্যামি ফ্রাইয়ের মতে, টাই হলো ভক্তি প্রকাশের একটি সূক্ষ্ম উপায়। তিনি বলেন, “এটি না বলেও জানিয়ে দেয় যে আপনি হ্যারির ভক্ত। সরাসরি কোনও আনুষ্ঠানিক স্মারক পোশাক না পরেও নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করা যায়। এটি অনেকটা যারা জানে, তারাই জানে ধরনের।”
লন্ডনের ১২টি অনুষ্ঠানের মধ্যে ছয়টিতেই হ্যারি স্টাইলস মঞ্চে টাই পরেছিলেন। এর মধ্যে ছিল ম্যাজেন্টা রঙের একটি টাই, বারগান্ডি রঙের একটি টাই এবং একটি ছোট ছোট ফুলের নকশার টাই, যার নকশা তার শার্টের সঙ্গে মিল ছিল। পুয়ের্তো রিকোর গায়ক ও র্যাপার ব্যাড বানি তার ‘ডিটিএমএফ’ অনুষ্ঠান শুরু করেছেন হালকা খড়ের রঙের স্যুট ও একই রঙের টাই পরে। আবার প্যারিসে শিয়াপারেল্লি ফ্যাশন হাউসের উচ্চমানের পোশাক প্রদর্শনীতে তিনি স্বর্ণালি চুলের গোছা দিয়ে তৈরি একটি ব্যতিক্রমী টাই পরে নজর কেড়েছেন। হ্যারি স্টাইলসের মতো অভিনেতা টম হল্যান্ড ও জশ ও’কনরও একরঙা টাই পছন্দ করেন। এই ধরনের টাইকে বলা হয় মনো টাই।



