রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বাংলাদেশ রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থা আয়োজন করতে যাচ্ছে ৩৭তম জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত উৎসব। আগামী ৮-৯ মে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে দুই দিনব্যাপী এই উৎসব অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
জানা যায়, সংস্থার সম্পাদক পীযূষ বড়ুয়া, নির্বাহী সভাপতি কাজল মুখার্জি ও খায়রুন আনাম কাইয়ুমের তত্ত্বাবধানে বর্তমানে উৎসবের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। রবীন্দ্রসংগীতের শাশ্বত রস ও আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে শিল্পীরা এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।
প্রস্তুতি ও মহড়া
প্রস্তুতি প্রসঙ্গে রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী তানজিনা তমা জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরেই উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের নিবিড় মহড়া চলছে। মহড়ার এ সময়টি যেন হয়ে ওঠে উৎসবের আগেই আরেকটি উৎসব—শিল্পীদের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার এক অনন্য ক্ষেত্র।
তিনি বলেন, “সংস্থার শিল্পীরা অডিশনের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত হন বলে এটি আমাদের কাছে এক অনন্য মিলনমেলা। সারা বছর আমরা এই বড় উৎসবটির জন্য অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করি। উৎসবের মূল আমেজের পাশাপাশি আমাদের এই মহড়ার আনন্দও অনেক বেশি।”
উৎসর্গ ও বিশেষ আকর্ষণ
এবারের উৎসবটি প্রয়াত শিল্পী আশা ভোঁসলে, শাহজাহান হাফিজ এবং মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট নজরুলসংগীত শিল্পী ডালিয়া নওশীনের স্মৃতিতে উৎসর্গ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে বরেণ্য শিল্পী কলিম শরাফীর জন্মদিনে বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী ইফফাত আরা দেওয়ানকে ‘কলিম শরাফী পদক’ ও সম্মাননা প্রদান করা হবে।
উদ্বোধন ও অতিথি
৮ মে শুক্রবার বিকাল ৪টায় উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক আনোয়ারা সৈয়দ হক। দ্বিতীয় দিনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রাবন্ধিক ও গবেষক মফিদুল হক।
অংশগ্রহণকারী ও অধিবেশন
উৎসবে সংস্থার নিজস্ব প্রায় ১৫০ জন শিল্পী ছাড়াও দেশের বরেণ্য অতিথি শিল্পী, আবৃত্তিকার এবং নৃত্যশিল্পীরা অংশগ্রহণ করবেন। প্রতিদিন সকাল ১০টায় প্রাতঃকালীন অধিবেশন এবং বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রধান অধিবেশনগুলো গান, কবিতা ও নৃত্যের মাধ্যমে সাজানো হয়েছে।



