৬৩ বছর বয়সে অটোভ্যান চালান সখা হোসেন, ছিলেন সার্কাস ও যাত্রার শিল্পী
৬৩ বছর বয়সে অটোভ্যান চালান সখা হোসেন, ছিলেন সার্কাস শিল্পী

রাজশাহীর বাগমারার অটোভ্যানচালক সখা হোসেন (৬৩) এলাকায় ‘হিরো’ নামে পরিচিত। পরিপাটি পোশাক-পরিচ্ছদ ও কথাবার্তার ধরন দেখে অনেকে বিশ্বাস করতে চান না তিনি পেশাদার ভ্যানচালক। তিনি দ্বীপপুর ইউনিয়নের মিরপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর এই পরিপাটি ভাবের পেছনে লুকিয়ে আছে অজানা এক গল্প।

শৈশব ও সার্কাস জীবন

শিশুকাল থেকেই ঘরছাড়া সখা হোসেন। বাবা-মায়ের ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ায় তিনি ‘কফিলের সার্কাস দল’ নামে একটি সার্কাস দলে যোগ দেন। আনন্দ ও পেট বাঁচানোর জন্য সেখানে ছোটখাটো কাজ শুরু করেন। পরে কিছু শারীরিক কসরত শিখে নিজেকে পাকাপোক্ত করেন। দল ভেঙে গেলে বেকার হয়ে পড়েন, কিন্তু মনের বিনোদন ধরে রাখেন।

যাত্রা ও গানের দলে অভিনয়

পরে বিভিন্ন যাত্রাদলের সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিনয় শুরু করেন। গ্রামাঞ্চলে জাতীয় দিবসের যাত্রাপালায় সহশিল্পী হিসেবে অভিনয় করতেন। নিজ এলাকায় ‘বেহুলা গানের দল’ গড়ে তোলেন। অভিনয়ের পাশাপাশি ঢোল বাজাতেন। কিন্তু শারীরিক সমস্যার কারণে দলের নেতৃত্ব ধরে রাখতে পারেননি। এক পায়ে সমস্যা থাকায় দায়িত্ব এলাকার এক তরুণের হাতে তুলে দেন। পরে প্রশিকা, ভার্ক, ব্র্যাকের সামাজিক সচেতনতামূলক নাটিকায় অভিনয় করে সংসার চালাতেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বর্তমান জীবন

সখা হোসেন বলেন, ‘নিজেকে এভাবে রাখাতে শান্তি পাই।’ এক ছেলে ও মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার পর তিনি স্বাধীন। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর আর বিয়ে করেননি। হুলিখালী এলাকায় বাঁধের পাশে সরকারি জায়গায় ছোট একটি ঘর তৈরি করে বসবাস করেন। তিনি সংসারের একমাত্র সদস্য। রান্নাসহ সব কাজ নিজেই করেন। সকালে অটোভ্যান নিয়ে বের হন রোজগারের জন্য। যা আয় হয়, তা দিয়েই খরচ চালান। কোনো সঞ্চয় নেই। তাঁর ভাষায়, ‘সংসারের খরচ বাদে যা থাকে তা দিয়ে পোশাক ও প্রয়োজনীয় জিনিস কিনি। এভাবে আনন্দের মধ্যে থাকলে ভেতরের দুঃখ-কষ্ট ভুলে থাকা যায়। সব সময় নিজেকে গানের চরিত্রের মতো সুখী মনে হয়।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভ্যান চালিয়ে নিজের খরচ উঠলে শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ দেন না। কারণ অসুস্থ হলে দেখাশোনার কেউ নেই। কখনো অসুস্থ হলে ভ্যান চালাতে পারেন না, তখন কষ্টে দিন কাটে। নিজের বাড়িঘর নেই, আপনজন নেই। তবু নিজেকে সুখী মনে করেন। পরিপাটি থাকার কারণে যাত্রীরা ভ্যানে উঠতে সংকোচবোধ করেন।

স্থানীয়দের কথা

স্থানীয় বাসিন্দা শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমরা সখাকে হিরো নামেই ডাকি। তার অভাব, কষ্ট থাকলেও তা প্রকাশ করেন না, সব সময় নিজেকে গুছিয়ে রাখেন।’ সাইদুর রহমান বলেন, ‘সখা চাচাকে দেখলে সুখী মানুষ মনে হয়। তিনি কষ্টে থাকলেও কাউকে বুঝতে দেন না। ভালো ঢোল বাজাতে পারেন, এখনো রাতে মাঝেমধ্যে বাঁধের হাটে গানের আসর বসান। লোকজনকে আনন্দ দেন।’