অলংকরণ : এস এম রাকিবুর রহমান। গ্রাফিকস: প্রথম আলো
কুত্রাপি–৫০৫
এখন গুজবের দিন, পোস্টট্রুথ পৃথিবীর ভাওনিটশেও বলেছেন নাথিং ইজ ফ্যাক্ট, কানাবগির তুমি আলাভোলা ছাওযাও, মিথের ভাগাড়ে নাচো নোনতা জামায়। কোনটা থামায় কারে, কৃষ্ণবিবরের টানে কিচ্ছা-কৃষকের কেতানেতা—ভোঁতা মাথায় তার আদিম রিরংসার রক্ত ও নাশ।
ভক্ত ও দাসের আছে লালাপড়া জিব জাহিলিয়াকালা কড়া লিকারে চলো বানোয়াট বাহাসে করি শান্তিবিধান। জানো, হাট কাহাসে আয়্যা?
হায়া শরমের কোনো কুল নেই স্বার্থের পেদানি খেয়ে সত্য-মিথ্যা সব হঠাৎ উধাও।
কুত্রাপি–৫১১
সকল নাটক মঞ্চে ওঠে নাফোটে না সকল ধানে খই, খচখচ করে কিছু বালি বাদ্যকরের। নকল কানে সই প্রেমালাপে চাক চাক মধু হুল ফোটানোর নেই শক্তি!
ধকল প্রাণে গেঁথে গেলে চেহারায় থাকে তার ছাপ। যে হারায় পাকে তার ভাব সঞ্চারী পন্থায় বিচিত্র পথের পুরাকীর্তির মতো পোঁটলায়। জোট হায় ভেঙে যায় মানুষের মনিটরে অচেনার অবসাদ।
ধনী ঘরে জমিয়ে রাখে ধান প্রজ্ঞার থালা শূন্য ও শিকারের ফালি। পুণ্যের অধিকার কালিঝুলি মাখা। বাঁকা পথ, সকলে বহন করে নদী, তবু পাড়জুড়ে পাকুড়ের আনন্দ জোটে না।
কুত্রাপি–৫১৬
মানুষেরা প্রতীত্যসমুৎপাদ ভুলে স্ট্যাটাসের আপডেট। ব্যাটাদের খাপ পেট ভুঁড়ি ঝুলে গেছে অ্যালগরিদমের ছুরি বাইনারি তলোয়ার। বলো তার ইন্টারফেসে থাকবে কি স্প্যাম ফিল্টার?
শ্যাম বিলটার দিকে তাকিয়ে দেখে মানিব্যাগে ডুমুরের ফুল। চুল চলে গেছে ইমোজির অসুখী রাত ইনসমনিয়ার ডেটাবেজে জুটিয়েছে সুখ। ব্যাটা লেজ গুটিয়েছে মুখে চুনকালি। নুন-বালি-গুড় নয় দূর নয় লগআউট অ্যাকটিভিটির। বেকটি মাটির মতো, প্রলেপের ইস্পাত দেখে টাইমলাইন স্ক্রল করে পাবে না কিছুই। বিলাপের বিষ হাতে সাইবর্গ, স্বার্থের খোঁয়াড়ে বসে আমরাও তার তরে সাজিয়েছি গেট!
কুত্রাপি–৫১৯
জনতা জোয়ার বোঝে, রাখে না তার নিচে কুমিরের খোঁজ। ঝাঁকে না থাকলে তারে কালিঝুলি মাখিয়ে দেয় ভৌতিক অবয়ব। চৌদিকে নব রব ওঠে, বদলাও পাল্টায়ে ফেলো। বদরাও খালের ভাও বুঝে বড়শিতে গেঁথে দেয় ব্যাঙ। পেতে রাখা ঠ্যাংগুলো হাতুড়ির মতো করে গমগম। ছাতু ক্ষীর যত ঘরে কম কম জমা থাকে অর্ধাহারী। পর্দা তারই যায় ছিঁড়ে। হায় ভিড়ের গল্পগুলো এমনই ইতিহাস লিখে রাখে!
তীরের অল্প চুলো জ্বলে টিমটিমে জানের জুয়ায়। বানের ধোঁয়ায় যারা আগুন আগুন বলে চিৎকারে চমকাও। শীৎকারে দমটাও শুনতে পাবে না অশুভ আততায়ীর আচমকা অনাহূত ভিড়ে।
কুত্রাপি–৫২০
উদ্ভট চাওয়াগুলো দেখি। ‘একি অপরূপ রূপে মা তোমার’ পোলাপানে মরে যায় মৃত্যুর আগে। গোলা ধানে ভরিবার ছলে তুলা কানে গুঁজে রাখে গন্ডগোলে। ভণ্ডগোলের পরে রেফারির বাঁশি নিয়ে গ্যালারি গোয়াল। সালারি জোয়াল পড়ে চাকরির গরু। চ্যালারই চোয়াল বড়, লম্বা গলায় তার ঝুলে থাকে পেট, পুঁথিগত বিদ্যার বেসামাল বোঁটা। তলায় তক্তা নেই চোতরাপাতার চুলকানি চৌকশ। ধুতরা দাতার বেশে ঘোরে ঘাড়ে–গর্দানে তার বুদ্ধি বিকাশ। শুদ্ধি নিকাশ হলে অতিলৌকিক জনতার জলভাতে নেমে আসে অগণিত নেকি।
প্রথম আলোর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
কবিতা থেকে আরও পড়ুন
কবিতা-অন্য আলো
অন্য আলো
কবিতা
শিল্প ও সাহিত্য
সাহিত্য



