সানরাইজার্স হায়দরাবাদের স্পিন বোলিং কোচ মুত্তিয়া মুরালিধরন বলেছেন, আইপিএলে ব্যাটসম্যানদের দাপটের মুখে বোলারদের মানিয়ে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। গতকাল মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের ২৪৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ৬ উইকেটে জিতেছে সানরাইজার্স। এই প্রসঙ্গে মুরালিধরন বলেন, বোলারদের জন্য পরিস্থিতি খুব কঠিন। এখনকার ওপেনাররা বল ভেতরে আসুক বা বাইরে যাক, সেটা না ভেবেই বোলারদের ওপর চড়াও হয়। আগে প্রথম ৬ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৪০-৫০ রান ভালো স্কোর ধরা হতো, এখন গড় রানই ৭০-৮০।
বোলারদের কী করণীয়?
মুরালিধরন মনে করেন, বোলারদের এখন ‘মেনে নিতে’ হবে যে তারা মার খাবেন এবং খেলার বর্তমান ধারার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। তিনি বলেন, টি-টোয়েন্টি এখন বড় ব্যবসা, স্পনসর ও বিনোদনের চাহিদা মেটাতে খেলার ধরন এমন। বাউন্ডারি পিছিয়ে দিলে বা বোলারদের সহায়ক উইকেট বানালে দর্শকরা বিরক্ত হবেন। ইমপ্যাক্ট প্লেয়ারের নিয়মও ব্যাটসম্যানদের আরও সুবিধা দিয়েছে।
আধুনিক স্পিন বোলিংয়ে আক্ষেপ
শ্রীলঙ্কান এই স্পিন কিংবদন্তি আধুনিক স্পিন বোলিং নিয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এখন স্পিনাররা বল ঘোরানোর চেয়ে জোরে বল করার চেষ্টা করে। তৃণমূল পর্যায়ে শেখানোর পদ্ধতিতে পরিবর্তন দরকার। ছোটবেলা থেকেই বল ঘোরানোর অভ্যাস করতে হবে। না হলে ব্যাটারদের কাছে তা থ্রো-ডাউনের মতো মনে হয় এবং তারা অনায়াসে ছক্কা মারে।
তরুণ ব্যাটারদের আত্মবিশ্বাস
মুরালিধরন তরুণ ব্যাটারদের আত্মবিশ্বাসের প্রশংসা করেন। তিনি সলিল অরোরার উদাহরণ দেন, যিনি যশপ্রীত বুমরার বলে নো-লুক ছক্কা মেরেছেন। আগে বুমরার মতো বোলারের সামনে তরুণ ব্যাটার টিকে থাকার চেষ্টা করত, এখন তারা ছক্কা মারার পরিকল্পনা করে। আধুনিক ক্রিকেটে এভাবেই খেলতে হয় বলে সবাই দেখিয়ে দিয়েছে।
নিজের সময়ের সঙ্গে তুলনা
নিজের সময়ের পাওয়ার হিটিং আর এখনকার মধ্যে পার্থক্য দেখিয়ে মুরালিধরন বলেন, আগে ৬০-এর বেশি ম্যাচে হয়তো দুবার মার খেতে হয়েছে, এখন স্পিনারের ৫০ রান দেওয়া সাধারণ ব্যাপার। শেন ওয়ার্নের সঙ্গেও একই অবস্থা ছিল। খেলাটা বদলে গেছে, তাই দুই যুগের তুলনা চলে না।
মুরালিধরন আরও বলেন, বোলারদের প্রচুর অনুশীলন করতে হবে এবং নিখুঁত হতে হবে। কপালে থাকলে একদিন ভালো করবেন, কিন্তু আবহাওয়া ও উইকেটের কারণে ভালো বোলিং করেও মার খেতে হতে পারে।



