একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদী গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শনিবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় তার কন্যা পরমা গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
শারীরিক অবস্থার অবনতি
পরমা জানান, বাবার কিডনি ফাংশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রস্রাব করতে পারছিলেন না। ফলে সারা শরীরে অ্যাসিড ছড়িয়ে পড়ে এবং হৃদস্পন্দন অনেক বেড়ে যায়। এর মধ্যে একটি ছোট হার্ট অ্যাটাকও হয়। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। অবস্থার গুরুতরতা বিবেচনায় তাকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
মুখের জটিলতা ও অপারেশন ঝুঁকি
শরীরে অ্যাসিড ছড়িয়ে পড়ায় কবির মুখেও জটিলতা দেখা দিয়েছে। মুখে অপারেশন প্রয়োজন হলেও ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বেশি, ফুসফুসে পানি জমা এবং বয়সজনিত কারণে অপারেশন সম্ভব হচ্ছে না। চিকিৎসকরা বর্তমানে হৃদস্পন্দন কমানোর চেষ্টা করছেন। ইলেকট্রিক শক থেরাপি প্রয়োজন হলেও হার্টের সমস্যা, শরীরে সংক্রমণ ও বেশি বয়সের কারণে সেখানেও জটিলতা রয়েছে। সোমবার চিকিৎসকরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবেন।
কবি স্বাভাবিকভাবে খেতে ও কথা বলতে পারছেন না। নলের মাধ্যমে খাবার দেওয়া হচ্ছে। তার উন্নতি হবে কিনা তা এখনও নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না চিকিৎসকরা।
দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্য সমস্যা
আল মুজাহিদী দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত সমস্যা ও হৃদরোগে ভুগছিলেন। প্রায় এক বছর আগে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে তিনি শয্যাশায়ী।
সাহিত্য ও কর্মজীবন
কবি আল মুজাহিদী একসময় দৈনিক ইত্তেফাকের সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্রজীবনে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশ নেন। তিনি কবিতা, উপন্যাস, শিশুসাহিত্য ও অনুবাদসহ বিভিন্ন শাখায় কাজ করেছেন।
উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ
তার কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে হেমলকের পেয়ালা, ধ্রুপদ ও টেরাকোটা, যুদ্ধ নাস্তি, মৃত্তিকা অতি-মৃত্তিকা, প্রিজন ভ্যান, দিদেলাস ও ল্যাবিরিস্থ, ঈডের হ্যামলেট, প্রাচ্য পৃথিবী, পৃথিবীর ধুলো, সৌর জোনাকি, ভিতা নুওভা, অ্যাকাডেমাসের বাগান, আল মুজাহিদীর শ্রেষ্ঠ কবিতা, আল মুজাহিদীর প্রেমের কবিতা, সন্ধ্যার বৃষ্টি, কালেরবন্দীতে, পাখির পৃথিবী, আলবাট্রাস, ভঙুর গোলাপ, কাঁদো হিরোশিমা কাঁদো নাগাসাকি ও পালকি চলে দুলকি তালে।
উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে প্রথম প্রেম, চাঁদ ও চিরকুট, মিলু এট ও স্যোন্যাটা, লাল বাতির হরিণ, রূপোলি রোদ্দুর, আলোর পাখিটা, ছুটির ছুটি, খোকার আকাশ ও খোকার যুদ্ধ। ছোটগল্পগ্রন্থের মধ্যে প্রপঞ্চের পাখি, বাতাবরণ ও ভরা কটাল মরা কটালের চাঁদ উল্লেখযোগ্য। গবেষণাগ্রন্থ কালান্তরের যাত্রীও তার রচনা। শিশুসাহিত্যে হালুম হুলুম, তালপাতার সেপাই, শেকল কাটে খাঁচার পাখি, সোনার মাটি রূপোর মাটি ও ইস্টিশানে হুইসেল অন্যতম। এছাড়া সমাজ ও সমাজতত্ত্ব নামে একটি প্রবন্ধগ্রন্থ এবং কাইফি আজমির কবিতা, পৃথিবীর কবিতা, আহমদ ফরাজের কবিতা, উর্দু কবিতা, হিন্দি কবিতা ও হাইনরীশ হাইনের কবিতা অনুবাদগ্রন্থ রয়েছে।
পুরস্কার ও স্বীকৃতি
তার সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি জীবনানন্দ দাশ একাডেমি পুরস্কার, কবি জসীমউদ্দীন একাডেমি পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন একাডেমি পুরস্কার, শেরে বাংলা সংসদ পুরস্কার, জয়বাংলা সাহিত্য পুরস্কার, বাসাসপ কাব্যরত্ন পদক ও একুশে পদক অর্জন করেছেন।



