পেশাদার রেসলিং জগতে ‘হাল্কাম্যানিয়া’ ছিল এক অপ্রতিরোধ্য উন্মাদনা। আশির দশকের অন্যতম জনপ্রিয় এই রেসলার গত বছরের ২৪ জুলাই মারা যান। ক্যারিয়ারে খ্যাতি পেলেও নানা কারণে তিনি ছিলেন আলোচিত–সমালোচিত। রিংয়ের সেই গগণবিদারী গর্জন ছাপিয়ে নেটফ্লিক্সের নতুন ডকুসিরিজ ‘হাল্ক হোগান: রিয়েল আমেরিকান’ এই কিংবদন্তির আড়ালে থাকা বিষাদময় অধ্যায়ই তুলে ধরেছে।
ডকুসিরিজের বিষয়বস্তু
তার আসল নাম টেরি জিন বোলিয়া—যিনি বিশ্বজুড়ে হাল্ক হোগান নামেই পরিচিত। তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের অন্ধকার দিকগুলো নিয়ে নির্মিত হয়েছে চার পর্বের এই সিরিজ। ডকুসিরিজটি গত ২২ এপ্রিল নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে।
সিরিজটি হোগানের শৈশব থেকে শুরু করে ‘সুপার ডেসট্রয়ার’ নামক মুখোশধারী এক তরুণ রেসলার হিসেবে তার যাত্রা এবং পরবর্তীকালে ডাব্লিউডাব্লিউই হল অব ফেমার হওয়ার রোমাঞ্চকর পথচলা দেখিয়েছে। তবে এটি কেবল তার সাফল্যের গল্প নয়, বরং তার চরম নৈতিক স্খলনেরও এক দলিল।
গোপন সত্য স্বীকার
২০২৫ সালে মৃত্যুর আগে ধারণকৃত এক একান্ত সাক্ষাৎকারে হোগান তার জীবনের অন্যতম বড় গোপন সত্য স্বীকার করেছিলেন। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে জাতীয় টেলিভিশনে স্টেরয়েড ব্যবহারের বিষয়টি অস্বীকার করলেও, এই সিরিজে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘অবশ্যই আমি মিথ্যা বলেছি। এটা এমন এক ভুল ছিল যা আমি আর কখনোই করতে চাই না।’
ব্যক্তিগত ও আইনি লড়াই
ডকু-সিরিজটিতে উঠে এসেছে তার সাবেক স্ত্রী লিন্ডার সঙ্গে তিক্ত বিবাহবিচ্ছেদ এবং সেই সময়ের চরম মানসিক অস্থিরতার কথা, যখন তিনি আত্মহত্যার কথা পর্যন্ত ভেবেছিলেন। এছাড়া গকার সাইটের বিরুদ্ধে তার বিখ্যাত আইনি লড়াইয়ের বিষয়বস্তুও এতে গুরুত্ব পেয়েছে। যদিও সেই মামলায় আদালত তাকে ১৪০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল, কিন্তু সেই জয় ছিল সাময়িক। কারণ মামলার সূত্র ধরে ফাঁস হওয়া তার কিছু বর্ণবাদী মন্তব্য হোগানের পেশাদার ক্যারিয়ারে বড় ধরনের ধাক্কা দেয় এবং তাকে ডাব্লিউডাব্লিউই থেকে বহিষ্কৃত হতে হয়।
রাজনৈতিক জীবন ও মৃত্যু
সিরিজটির শেষ দিকে উঠে এসেছে হোগানের রাজনৈতিক জীবনের এক নতুন মোড়। ২০২৪ সালের রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনে তার সেই নাটকীয় পারফরম্যান্স এবং ট্রাম্পের প্রতি তার আনুগত্যের বিষয়টি তিনি নিজের মতো করে ব্যাখ্যা করেছেন।
২০২৫ সালের জুলাই মাসে ৭১ বছর বয়সে ঘাড়ে অস্ত্রোপচারজনিত জটিলতায় মারা যান এই মেগাস্টার। তার এই বিদায়ের পর সতীর্থ কুস্তিগীর ব্রেট হার্ট এবং জেসি ভেঞ্চুরা তাকে শ্রদ্ধা জানালেও, হোগানের নিজের কণ্ঠেই যেন তার জীবনের সবচেয়ে বড় সত্যটি প্রতিধ্বনিত হয়: ‘টেরি বোলিয়া পৃথিবীর সেরা মানুষ ছিল না। আমার চরিত্রটি নিখুঁত হলেও, ব্যক্তি হিসেবে আমি ছিলাম অসম্পূর্ণ।’



