এআই কখনোই মানব সঙ্গীত স্রষ্টাকে প্রতিস্থাপন করতে পারবে না: হামিন আহমেদ
এআই কখনোই মানব সঙ্গীত স্রষ্টাকে প্রতিস্থাপন করতে পারবে না

এআই (AI) একটি টুল। মিউজিক ক্রিয়েটররা এই টুলটিকে ব্যবহার করে কিছু অ্যাডভান্টেজ বা বেনিফিট পেতে পারে। সে বেনিফিট হয়তো গান বানানোর ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারে অথবা গানটিকে কমপ্লিট করতে আগের তুলনায় অনেক কম সময়ে সেটা করে নিতে পারে। কিন্তু এটা কখনোই একজন হিউম্যান মিউজিক ক্রিয়েটর—তার যে চিন্তাভাবনা যেখান থেকে গানের সৃষ্টি হয়—সেটাকে কখনোই প্রতিস্থাপন করতে পারবে না, কখনোই পারবে না।

এআইয়ের সীমাবদ্ধতা

এআইকে কোনো কাজ করতে গেলে তাকে ট্রেইন করতে হয়। ট্রেইন করতে গেলে যেকোনো বিষয়ের অনেক ডেটা তাকে ফিড করতে হয়। গানের ক্ষেত্রে যা কিছু সুর, লিরিক্স, কম্পোজিশন, অ্যারেঞ্জমেন্ট ইতিমধ্যে রিলিজড হয়েছে, সেই ডেটাগুলো ব্যবহার করে এআইকে ট্রেইন করা হয়। কিন্তু একজন ক্রিয়েটর যখন রাত দুটোয় তার মনে সুর আসে, তাড়াতাড়ি গিটার বা কিবোর্ড নিয়ে বসে সুর করে, পরদিন লিরিসিস্টকে ফোন করে—এই সৃষ্টির প্রক্রিয়াটি যতক্ষণ না রিলিজড হচ্ছে, ততক্ষণ এআই জানে না এটা কী, কারণ এটা তখনো তার জন্য ডেটা নয়।

নতুন সৃষ্টির ক্ষেত্রে ‘দ্য মিউজিক ক্রিয়েটরস হু আর হিউম্যান’ তারা সবসময় ‘ওয়ে অ্যাবাভ’ থাকবে। সেটা যেকোনো নতুন গান সৃষ্টির ক্ষেত্রে অবশ্যই, সুরের ক্ষেত্রেও, লিরিক্সের ক্ষেত্রেও। এখানেই এআই শুধুমাত্র একটি মেশিন। সে সময় বাঁচিয়ে দিতে পারে, প্রক্রিয়ায় সাহায্য করতে পারে, কিন্তু কখনোই প্রকৃত ক্রিয়েটর হতে পারবে না।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ক্রিয়েটরদের দৃষ্টিভঙ্গি

হামিন আহমেদ বলেন, ‘আমি আজকে গিটার নিয়ে বসে একটি গানে কী সোলো বাজাবো, তা এআই-এর জানার কোনো উপায় নেই। সুতরাং সে সেটাকে কখনোই সে ধরনের বা সে স্কেলের বা সে কোয়ালিটির কোনো ইনপুট দিতে পারবে না কোনো ক্রিয়েটরকে। সে পারবে যেগুলো ইতিমধ্যে দেওয়া আছে। এটাই বড় পার্থক্য এবং এখানেই ‘হিউম্যান ইজ মাচ সুপিরিয়র দ্যান মেশিন অ্যাট এনি টাইম’।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি আরও বলেন, ‘যাদের জ্ঞান নেই কিন্তু এআই ব্যবহার করে জ্ঞান অর্জন করে বলে দিচ্ছেন, যাদের কোনো স্কিল নেই কিন্তু এআই দিয়ে গিটার সোলো বানিয়ে বলতে চান এটা তাদের, যারা জীবনে কখনো সুর করেননি কিন্তু এআই দিয়ে সুর করে নিজেকে কম্পোজার দাবি করেন—এসব ‘ফ্রডুলেন্ট অ্যাক্টিভিটি’ যারা করতে চায় তাদের জন্য এআই ঠিক আছে। আর যারা টুল হিসেবে ব্যবহার করতে চায় যে, তাদের ইতিমধ্যে সৃষ্ট কাজে আরও উৎকর্ষ আনতে—সেটা ‘ফাইন’ এবং ‘হেল্পফুল’।’

কপিরাইট ও আইনি জটিলতা

পৃথিবীতে যারা কপিরাইট নিয়ে কাজ করে, তারা ইতিমধ্যে এআইয়ের বিরুদ্ধে কথা বলা শুরু করেছে। ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অর্গানাইজেশন (WIPO) এখন বসছে যে এআইয়ের ডেটা ব্যবহারের লিগালিটি কতটুকু। ভবিষ্যতে এমন হতে পারে যে এআই ব্যবহার করে তৈরি মিউজিকের কোনো কপিরাইট প্রটেকশন থাকবে না। অর্থাৎ আপনি বলতে পারবেন না যে এটা আপনার গান, কারণ এটা একটি মেশিন তৈরি করেছে অন্যের ডেটা বা সৃষ্টি ব্যবহার করে।

এই আইনি জটিলতাগুলো মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। যারা ভাবছেন এআই দিয়ে রাতারাতি মিউজিশিয়ান হয়ে যাবেন, তাদের জন্য সামনে কঠিন সময় আসছে যদি না তারা অরিজিনাল কোনো কিছু সৃষ্টি করতে পারেন।

লেখক পরিচিতি: বাংলাদেশের প্রখ্যাত রক ব্যান্ড 'মাইলস'-এর লিড গিটারিস্ট ও গায়ক এবং বর্তমানে দেশের সঙ্গীতশিল্পীদের মেধাস্বত্ব রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান BLCPS-এর সিইও। এ ছাড়া তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ মিউজিক্যাল ব্যান্ডস অ্যাসোসিয়েশন (বামবা)-এর সভাপতি।