বলিউডের গ্ল্যামার ও ভাইরাল গানের জগতে নোরা ফাতেহি সবসময় আলোচিত। তবে এবার তিনি আলোচনায় এসেছেন ভিন্ন কারণে। একটি বিতর্কিত গানের কারণে সামাজিক সমালোচনা, আইনি জটিলতা ও জাতীয় নারী কমিশনের তলব—সব মিলিয়ে বড় চাপের মুখে পড়েছিলেন এই অভিনেত্রী। শেষ পর্যন্ত সেই বিতর্ক নিয়েই প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হলো নোরাকে। ভারতের দিল্লিতে জাতীয় নারী কমিশনের সামনে হাজিরা দিয়ে নোরা বলেন, কাউকে আঘাত করা তার উদ্দেশ্য ছিল না। একজন শিল্পী হিসেবে তিনি ঘটনার দায় নিচ্ছেন এবং এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করছেন। সংবাদমাধ্যমের সামনে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি জানান, পুরো পরিস্থিতি তাকে বিব্রত ও লজ্জিত করেছে।
বিতর্কের সূত্রপাত
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল সিনেমা ‘কেডি: দ্য ডেভিল’-এর আলোচিত গান ‘সরকে চুনর তেরী সরকে’। গানটি মুক্তির পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। অনেকেই অভিযোগ করেন, গানের কথা ও দৃশ্যায়নে অশালীনতা রয়েছে এবং নারীদের প্রতি কুরুচিকর উপস্থাপন করা হয়েছে। বিশেষ করে নোরার নাচের কিছু ভঙ্গি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সামাজিক ও নারী অধিকারকর্মীদের একটি অংশ। বিতর্ক দ্রুতই সামাজিক মাধ্যম থেকে আইনি পর্যায়ে পৌঁছে যায়। জাতীয় নারী কমিশন বিষয়টি আমলে নিয়ে নোরা ফাতেহি ও সঞ্জয় দত্তকে তলব করে। কারণ গানটিতে দুজনকেই একসঙ্গে দেখা যায়।
ক্ষমা ও দায়িত্ব গ্রহণ
বৃহস্পতিবার (৭ মে) কমিশনের সামনে হাজির হন নোরা। সেখানে তিনি শুধু ক্ষমাই চাননি বরং সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে একটি বড় ঘোষণাও দিয়েছেন। অভিনেত্রী জানিয়েছেন, এখন থেকে অনাথ মেয়েদের শিক্ষার ব্যয় বহনের দায়িত্ব তিনি নিজেই নেবেন। তার ভাষায়, সমাজের প্রতি ইতিবাচক কিছু ফিরিয়ে দিতে চান তিনি। বিনোদন অঙ্গনের অনেকে মনে করছেন, সমালোচনার মুখে এটি নোরার ভাবমূর্তি পুনর্গঠনেরও একটি প্রচেষ্টা। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মাধ্যমে তাকে নিয়ে সমালোচনা বেশ তীব্র হয়ে উঠেছিল। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের ওপর এ ধরনের গানের প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।
সঞ্জয় দত্তের ভূমিকা
এর আগে গত ২৭ এপ্রিল জাতীয় নারী কমিশনে হাজিরা দেন সঞ্জয় দত্ত। তার আইনজীবী দাবি করেন, গানটি যে ভাষায় তৈরি হয়েছিল, তার অর্থ সম্পর্কে অভিনেতা পুরোপুরি অবগত ছিলেন না। ফলে গানের বক্তব্য বুঝে নয় বরং পেশাগত কাজের অংশ হিসেবেই তিনি এতে অংশ নিয়েছিলেন।
বিতর্কের প্রভাব
সব মিলিয়ে ‘সরকে চুনর তেরী সরকে’ গানটি এখন শুধু একটি সিনেমার গান নয় বরং বলিউডে কনটেন্টের সীমা, শিল্পীর দায়বদ্ধতা এবং সামাজিক সংবেদনশীলতা নিয়ে নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তবে এই ঘটনা নতুন নয়। নাচ ও স্ক্রিন প্রেজেন্সের জন্য নোরা জনপ্রিয় হলেও, তার অনেক গানই অতিরিক্ত আবেদনময়ী উপস্থাপনার অভিযোগে সমালোচিত হয়েছে।



