ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে দেওয়া এবং তৃণমূল সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের পরিচয় পরিবর্তন করেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে রাজ্যপাল টিএন রবি সপ্তদশ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করার ফলে বর্তমান মন্ত্রিসভার আইনগত অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়েছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে এখনো তার পরিচয় হিসেবে ‘পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী’ শোভা পাচ্ছে।
ভোট গণনায় পরাজয়ের পরও পরিচয় অপরিবর্তিত
ভোট গণনায় বড় ব্যবধানে পরাজয় এবং বিধানসভা ভেঙে যাওয়ার পরও নিজের নামের আগে ‘সাবেক’ শব্দটি যুক্ত না করার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত ৪ মে প্রকাশিত নির্বাচনের ফলাফলে ২৯৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৭টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ জয় লাভ করে এবং তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৮০টি আসনে সীমাবদ্ধ থাকে। গণতান্ত্রিক রীতি অনুযায়ী পরাজয়ের পর রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই পথে হাঁটেননি। বরং তিনি শুরু থেকেই বিজেপির বিরুদ্ধে ১০০টিরও বেশি কেন্দ্রে ভোট ‘লুট’ করার অভিযোগ তুলে এই ফলাফলকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
নিজের কেন্দ্রে পরাজয় ও পদত্যাগ না করার অবস্থান
নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত হওয়ার পরও তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, যেহেতু জোর করে ভোট নেওয়া হয়েছে, তাই তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ না করার এই অনড় অবস্থানের কারণে পশ্চিমবঙ্গে এক অভূতপূর্ব শাসনতান্ত্রিক সংকট তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিধানসভা ভেঙে দেওয়া হলেও রাজ্যপাল তাকে বরখাস্ত করেননি, আবার নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত ‘তদারকি মুখ্যমন্ত্রী’ হিসেবে দায়িত্ব পালনের অনুরোধও করেননি।
রাজনৈতিক কৌশল ও আইনি ধোঁয়াশা
তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, মমতা চাইছেন রাজ্যপাল বা কেন্দ্রীয় সরকার তাকে বরখাস্ত করুক, যাতে তিনি রাজনৈতিকভাবে নিজেকে ‘শিকার’ হিসেবে তুলে ধরতে পারেন। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার পর্যন্ত রাজ্যের শাসনভার কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে আইনি ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা বা মন্ত্রিসভা না থাকায় রাজ্যপাল সরাসরি নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারছেন। যেহেতু মন্ত্রিপরিষদ রাজ্যপালের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে এবং বর্তমানে সেই প্রতিনিধি নেই, তাই শনিবার সকালে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ পর্যন্ত রাজভবনই সর্বেসর্বা।
রাষ্ট্রপতি শাসনের সম্ভাবনা ও নতুন সরকারের শপথ
চাইলে রাজ্যপাল এই সাময়িক সময়ের জন্য রাষ্ট্রপতি শাসনের সুপারিশ করতে পারতেন, তবে তিনি আপাতত সেই পথে যাচ্ছেন না। শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বিজেপির নতুন সরকার শপথ নেবে। ততক্ষণ পর্যন্ত সামাজিক মাধ্যমে মমতার এই ‘মুখ্যমন্ত্রী’ পরিচয় এবং প্রশাসনিক স্থবিরতা নিয়ে বিতর্ক চলার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।



