চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেছেন, বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানি নির্বিচার সেচের কাজে ব্যবহারের কারণে পানির স্তর নিচে নেমে গেছে এবং আগের জায়গায় ফিরে আসছে না। এই অবস্থা হুট করে হয়নি। পানি উত্তোলনের ক্ষেত্রে সুশাসন বলতে আমরা যা বুঝি, তাতে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও দায়িত্ববোধ থাকে, যা এখানে অনুপস্থিত।
গভীর নলকূপ বসানোর নির্দেশনা অমান্য
বরেন্দ্র অঞ্চলের রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁয় সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৪০০টি গভীর নলকূপ বসানোর নির্দেশনা ছিল। কিন্তু নির্দেশনা অমান্য করে অনেক বেশি গভীর নলকূপ বসানো হয়েছে। বাকি নলকূপগুলো ব্যক্তিমালিকানায় চলছে। রাজশাহীতে গভীর নলকূপের পরিত্যক্ত গর্তে একটি শিশু পড়ে কিছুদিন আগে মারা গেছে, যা ব্যক্তিমালিকানাধীন ছিল। ব্যক্তিমালিকানায় যাঁরা করেন, তাঁদের দায়বদ্ধতা কম।
ওয়াটার লর্ডশিপের সৃষ্টি
বাংলাদেশ পানি আইন এবং বিধিতে এই জায়গায় কিছু নিষেধাজ্ঞা আছে। কিন্তু বরেন্দ্র এলাকায় পানি উত্তোলন ও পানি ব্যবসা এলাকার সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নিজের মতো করে করেন। বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের হাত অতটা শক্তিশালী নয়। আইনের বিধি মোতাবেক কেউ চলছে না, ফলে ওয়াটার লর্ডশিপ তৈরি হয়েছে। এই লর্ডশিপ পানিসংকটের বড় চ্যালেঞ্জ। কেউ কোনো আইনকানুনের ধার ধারে না। সরকারকে এসব বিষয়ে সতর্ক হতে হবে।
প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ
আজকে ওই ১১ থেকে ১২ হাজার গভীর নলকূপ যদি চলতে থাকত, তাহলে হুট করে এই সংকট হতো না। তাই সরকারের আইনের প্রয়োগ সঠিকভাবে হতে হবে। সুশাসনের পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির বিকল্প উৎসের সন্ধান দ্রুত করতে হবে। খাঁড়ি ও পুকুরগুলো খনন-পুনঃখনন করে বৃষ্টির পানি ধারণ করার ব্যবস্থা করতে হবে। বরেন্দ্র অঞ্চল উঁচু, সেখান থেকে পানি নিচের দিকে চলে আসতে পারে। তাই খাঁড়িতে ক্রসডেম দিয়ে পানি ধরে রাখতে হবে। বর্ষা মৌসুমে আমন ধানের সময় খরা হয়, তখন নদীর পানি দিয়ে খরা মোকাবিলা করতে হবে। বোরো ধানের শুরুটা পুকুর ও খাঁড়ির পানি দিয়ে করতে হবে, তারপর সংকট অনুযায়ী ভূগর্ভস্থ পানি তুলতে হবে। কখনোই নির্বিচার ভূগর্ভস্থ পানি তোলা যাবে না।
ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনরুদ্ধার
ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে বৃষ্টির পানি ফিল্টার করে মাটির নিচে পাঠাতে হবে। ভূ-উপরিস্থ পানির সব উৎস কাজে লাগাতে হবে। সচেতনতা বাড়াতে হবে, যাতে ভূগর্ভস্থ পানির অপচয় না হয়।
চৌধুরী সারওয়ার জাহান: অধ্যাপক, ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়



