কক্সবাজারে মাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা যুবকের পা উড়ে গেল, অবস্থা আশঙ্কাজনক
কক্সবাজারে মাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা যুবকের পা উড়ে গেল

কক্সবাজারে মাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা যুবকের পা উড়ে গেল, অবস্থা আশঙ্কাজনক

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বালুখালী সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমারের অভ্যন্তরে পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইনের বিস্ফোরণে এক রোহিঙ্গা যুবক মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণে তার বাম পায়ের গোড়ালি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং ডান পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয় রোহিঙ্গা শরণার্থী ও জেলেদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।

আহতের পরিচয় ও চিকিৎসা

আহত যুবক মো. সাদেক (২৫) উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১০, ব্লক-এফ/১৩ এর বাসিন্দা। তার পিতা বশির আহমেদ ও মাতা সারা খাতুন। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর তাকে প্রথমে উখিয়ার কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং জটিল অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।

বিস্ফোরণের স্থান ও উদ্ধার কার্যক্রম

বিজিবি সূত্রে প্রকাশ, বিস্ফোরণটি উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধীনস্থ বালুখালী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ঘটেছে। সুনির্দিষ্টভাবে, বিআরএম-২১ থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দক্ষিণে, মাস্টার কাঠি পোস্ট থেকে প্রায় ২৫০ মিটার উত্তরে এবং শূন্যরেখা থেকে আনুমানিক ১৫০ মিটার মিয়ানমারের ভেতরে ‘নারিকেল বাগান’ নামক স্থানে এ ঘটনা সংঘটিত হয়। বিস্ফোরণের শব্দ শুনে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখতে পান, গুরুতর আহত সাদেককে তার সহকর্মীরা শূন্যরেখা অতিক্রম করে বাংলাদেশের দিকে নিয়ে আসছেন। স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘটনার পটভূমি ও প্রভাব

জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে সাদেকসহ কয়েকজন জেলে সীমান্ত অতিক্রম করে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছিলেন। মাছ ধরা শেষে ফেরার পথে পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইনের সংস্পর্শে আসায় বিস্ফোরণ ঘটে এবং তিনি মারাত্মক আহত হন। রোহিঙ্গা শরণার্থীরা জানান, সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। জীবিকার প্রয়োজনে সীমান্ত অতিক্রম করা রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জেলেদের জন্য এটি একটি বড় ধরনের ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছে, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলছে।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে মাছ ধরতে গিয়ে ফেরার সময় মাইন বিস্ফোরণে এক জেলে গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তবে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

এ ঘটনা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোর নিরাপত্তা ও মানবিক সংকটকে আরও উসকে দিয়েছে, যা স্থানীয় ও বৈশ্বিক পর্যায়ে মনোযোগের দাবি রাখে।