রোহিঙ্গা শিবিরে এলপিজি সংকট: বন উজাড়ের ঝুঁকিতে পরিবেশ ও বন্য প্রাণী
রোহিঙ্গা শিবিরে এলপিজি সংকটে বন উজাড়ের ঝুঁকি

রোহিঙ্গা শিবিরে এলপিজি সংকট: বন উজাড়ের ঝুঁকিতে পরিবেশ ও বন্য প্রাণী

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ হ্রাস পাওয়ায় বন থেকে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ বেড়ে গেছে, যা স্থানীয় বনাঞ্চল ও বন্য প্রাণীর জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি শিবিরের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে মাসে একবার ১২ কেজি এলপিজি পাওয়া গেলেও এখন তা ৪৫ দিনে একবার দেওয়া হচ্ছে, ফলে অন্তত ২০-২৫ দিনের জন্য বিকল্প জ্বালানির প্রয়োজন পড়ছে।

জ্বালানি সংকটের প্রভাব

মধুরছড়া আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা কাদির হোসেন বলেন, "গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে ২০-২৫ দিন চলা যায়, বাকি সময় কাঠ সংগ্রহ করতে বনে যেতে হয়।" লম্বাশিয়া ও বালুখালী শিবিরের রোহিঙ্গা নুরুল আলম, রহিম উল্লাহ ও সুলতান আহমদ জানান, ১২ কেজির সিলিন্ডার ১৫-২০ দিনের বেশি চলে না, কিন্তু বাজারে এর দাম ২ হাজার টাকার বেশি হওয়ায় কেনা সম্ভব নয়। এ ছাড়া খাদ্যসহায়তা আগে মাসে ১২ ডলার থেকে কমে ৭-১২ ডলারে নেমে এসেছে, যা নিত্যপ্রয়োজন মেটাতে সংগ্রাম তৈরি করেছে।

বনাঞ্চলের উপর চাপ

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে ১৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাস করছেন, যাদের প্রতিদিন প্রায় পাঁচ কেজি কাঠের প্রয়োজন হয়। মাসিক প্রায় ২ কোটি ৪৫ লাখ কেজি কাঠ সংগ্রহ করা হচ্ছে সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে, যা বন উজাড় ও পরিবেশগত ক্ষতির কারণ হচ্ছে। কক্সবাজার দক্ষিণের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, "গ্যাস সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে বনাঞ্চল রক্ষা করা কঠিন হবে।" তিনি উল্লেখ করেন, বনভূমি ধ্বংসের ফলে ৬৭টি বন্য হাতি খাদ্য ও পানির সংকটে পড়েছে এবং হাতির করিডর বন্ধ হয়ে গেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কারণ ও উদ্যোগ

শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের মতে, তহবিলসংকটের কারণে গ্যাস সিলিন্ডারের সরবরাহ কমেছে। ২০১৮ সালে চালু হওয়া সেফ প্লাস কর্মসূচির অধীনে এলপিজি বিতরণ করা হলেও বর্তমানে তা সীমিত হয়ে পড়েছে। ইউএনএইচসিআরের এক কর্মকর্তা বলেন, এলপিজি ব্যবহার আগুনের ঝুঁকি কমালেও সরবরাহ হ্রাস বন উজাড় বাড়াচ্ছে। পরিবেশবাদী সংগঠন কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা সতর্ক করে দিয়েছেন, "আড়াই লাখ রোহিঙ্গা প্রতি মাসে সাত লাখ মণ কাঠ পোড়াচ্ছেন, যা বনাঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে।"

ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ

বন বিভাগের কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, যদি এই অবস্থা আগামী জুন পর্যন্ত চলতে থাকে, তবে উখিয়া-টেকনাফের সংরক্ষিত বনে গাছপালা অবশিষ্ট থাকবে না। ২০১৭-২০১৮ সালে আশ্রয়শিবির নির্মাণে ৬ হাজার ১৬৩ একর বন ধ্বংস হয়েছে, যার ফলে পাহাড়ধস ও হাতির আক্রমণে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। দ্রুত এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত না করলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।