ঘটনার বিবরণ
ফিলিপাইনের লেইতে প্রদেশের তাকলোবান শহরের স্যান হোসে ন্যাশনাল হাইস্কুলে সোমবার (২২ জুন) সকালে এক বন্দুক হামলায় তিন শিক্ষার্থী নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
হামলাকারীদের পরিচয়
পুলিশের লেফটেন্যান্ট ইভালিন দিয়াজ জানান, ১৪ ও ১৫ বছর বয়সী দুই কিশোর স্কুলের ভেতরে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। ঘটনার পরপরই তাদের আটক করা হয়। অভিযুক্তরা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা
স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেছে এএফপি। ভিডিওতে আতঙ্কিত শিক্ষার্থীদের চিৎকার ও কান্না করতে দেখা যায়। অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে শ্রেণিকক্ষের ভেতরে লুকিয়ে পড়ে। এ সময় থেমে থেমে গুলির শব্দও শোনা যায়।
তদন্ত ও সম্ভাব্য কারণ
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বুলিং বা সহপাঠীদের দ্বারা হয়রানির ঘটনা হামলার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং কীভাবে সেগুলো স্কুলে আনা হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
আহতদের অবস্থা
আহত পাঁচ শিক্ষার্থীকে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তাদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সরকারের প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পর ফিলিপাইনের শিক্ষা বিভাগ উচ্চ সতর্কাবস্থা জারি করেছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয়, আঞ্চলিক ও বিভাগীয় কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন এবং স্কুল কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন।
ফিলিপাইনে বন্দুক সহিংসতার প্রেক্ষাপট
ফিলিপাইনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বন্দুক হামলার ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল। তবে দেশটির রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এ ধরনের সহিংসতার ঘটনা মাঝেমধ্যে ঘটে থাকে। ২০২২ সালে আতেনেও দে মানিলা বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্দুক হামলায় সাবেক এক মেয়রসহ তিনজন নিহত হয়েছিলেন। দেশটিতে আগ্নেয়াস্ত্রের বিক্রি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হলেও কালোবাজারে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র সহজলভ্য বলে জানা যায়।



