শরীয়তপুরের জাজিরার বিলাসপুরে আবারও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার জানখারকান্দি গ্রামের একটি কবরস্থানের পাশের বাগানে এই বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের খবর পেয়ে বিকেলে ওই এলাকায় যান স্থানীয় সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তবে বিস্ফোরণে কোনো জানমালের ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার বিবরণ
জাজিরা থানা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিলাসপুর ইউনিয়নের জানখারকান্দি গ্রামে আজ বেলা ১১টার দিকে বিকট শব্দ শুনে গ্রামের মানুষ ছোটাছুটি শুরু করেন। গ্রামের একটি পারিবারিক কবরস্থানের পাশের বাগানে ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এতে বাগানের একটি স্থানে বড় গর্ত সৃষ্টি হয় এবং বিভিন্ন গাছের ডাল ও পাতা ঝলসে যায়। গ্রামবাসী ঘটনাটি জাজিরা থানায় জানালে দুপুরে পুলিশ সদস্যরা ওই গ্রামে যান এবং সেখান থেকে ককটেল বিস্ফোরণের বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করেন। এরপর বিকেলে সেখানে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মহিউদ্দিন মিরাজ।
আধিপত্য বিরোধ ও ককটেল সংস্কৃতি
বিলাসপুর ইউনিয়ন পদ্মা নদীর তীরঘেঁষা এলাকা। গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ৪০ বছর ধরে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। এ কারণে বিভিন্ন সময় বিলাসপুরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং এসব সংঘর্ষে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বিলাসপুরের বিভিন্ন পক্ষের লোকজন ককটেল তৈরি করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করেন। গত ৮ জানুয়ারি বিলাসপুরের মুলাই ব্যাপারীকান্দি এলাকায় ককটেল তৈরি করার সময় বিস্ফোরণে তিন ব্যক্তি নিহত হন। এরপর বিভিন্ন সময় পুলিশ ও যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে ককটেল তৈরির কারখানার সন্ধান পায় এবং সেসব স্থান থেকে ককটেল ও ককটেল তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করে।
শিশুর কবজি বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা
গত শুক্রবার জাজিরার চরধুপুর চরকান্দি এলাকায় একটি ফসলি জমিতে ১০ বছর বয়সী এক শিশু ককটেল পায়। ককটেল হাতে নেওয়ার পর তা বিস্ফোরিত হয় এবং ওই বিস্ফোরণে শামসুল মাতবরের ছেলে রাহাতের ডান কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সে বর্তমানে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গত ছয় মাসে জাজিরার অন্তত ১৫টি স্থানে সংঘর্ষে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দার বক্তব্য
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানখারকান্দি গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, 'বেলা ১১টার দিকে বাড়ির পাশে ফসলি জমিতে কাজ করছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনতে পাই। দেখি, ধোঁয়া উড়ছে। সেই স্থানে ছুটে যাই। কবরস্থানের পাশের একটি বাগানের ভেতর মাটি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বড় একটি গর্ত হয়ে আছে। আমরা ভয় পেয়ে যাই। গ্রামের অনেক মানুষ সেখানে ছুটে আসে। এরপর পুলিশকে জানানো হয়।'
সংসদ সদস্যের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ বিলাসপুরের বিভিন্ন স্থানে সিসি ক্যামেরা বসানোর ঘোষণা দিয়েছেন। আজ বিস্ফোরণের খবর পেয়ে তিনি বিলাসপুরের ওই গ্রামে যান। তিনি বলেন, 'বিলাসপুরে আর যেন কোনো ককটেল বিস্ফোরিত না হয়, সেদিকে নজরদারি বাড়ানোর জন্য পুলিশকে বলেছি। আজ থেকে এখানে গোয়েন্দারা কাজ করবেন। কোথায় কী হয়, তা খুঁজে বের করতে হবে। খুব শিগগির সিসি ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু করা হবে।'
পুলিশের তদন্ত
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মেদ বলেন, 'বিলাসপুরের একটি নির্জন স্থানে বিকট শব্দে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে। সম্ভবত মাটির নিচে কোনো পক্ষ ককটেল রেখেছিল। আমরা সেখান থেকে বিস্ফোরণের আলামত উদ্ধার করেছি। ওই ঘটনা কারা ঘটিয়েছে, তা বের করার জন্য তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।'



