সংযুক্ত আরব আমিরাতের বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান নাজুক যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এই হামলা ঘিরে নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
হামলার বিবরণ
আমিরাতের কর্তৃপক্ষ জানায়, রোববার (১৮ মে) আবুধাবির আল-ধাফরা অঞ্চলে অবস্থিত বিদ্যুৎকেন্দ্রটির সীমানার ভেতরে একটি ড্রোন আঘাত হানলে একটি জেনারেটরে আগুন ধরে যায়। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং তেজস্ক্রিয়তার মাত্রাও স্বাভাবিক রয়েছে। দেশটির পারমাণবিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা এক বিবৃতিতে জানায়, আরব উপদ্বীপের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির চারটি ইউনিটই স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং উৎপাদনে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।
প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অবস্থা
ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পক্ষ হামলার দায় স্বীকার করেনি। আমিরাত সরকারও এখন পর্যন্ত কোনো দেশকে সরাসরি দায়ী করেনি। তবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুটি ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হলেও তৃতীয় একটি ড্রোন বিদ্যুৎকেন্দ্রের জেনারেটরে আঘাত হানে। মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুযায়ী, ড্রোনগুলো ‘পশ্চিম সীমান্ত’ দিয়ে প্রবেশ করেছিল। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ঘটনার উৎস শনাক্তে তদন্ত চলছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
এদিকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানায়, হামলার কারণে একটি রিঅ্যাক্টর সাময়িকভাবে জরুরি ডিজেল জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়। আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রোসি এ ঘটনাকে ‘গভীর উদ্বেগজনক’ হিসেবে উল্লেখ করে পারমাণবিক স্থাপনায় যেকোনো ধরনের সামরিক হামলাকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন।
বারাকাহ বিদ্যুৎকেন্দ্রের গুরুত্ব
উল্লেখ্য, সৌদি আরব সীমান্তের কাছে এবং আবুধাবি থেকে প্রায় ২২৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর একটি অংশ। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ছে। এ পরিস্থিতির মধ্যেই ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতের সাম্প্রতিক মন্তব্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতার খবর নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে এসব বিষয়ে আমিরাত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেনি।
সূত্র: আল জাজিরা



