জাপানের ইওয়াতে প্রবাসী বাঙালিদের হৃদয়ে বাংলা নববর্ষের উষ্ণতা
জাপানে প্রবাসী বাঙালিদের বৈশাখী উৎসব

জাপানের ইওয়াতে প্রবাসী বাঙালিদের হৃদয়ে বাংলা নববর্ষের উষ্ণতা

জাপানের ইওয়াতে বসবাসকারী বাংলাদেশি ভাইবোনেরা দূরপ্রবাসের ব্যস্ততা ও একাকিত্বের মাঝেও এক টুকরো দেশের টানে একত্রিত হন। বৈশাখের এই দিনটি শুধু বর্ষপঞ্জির তারিখ নয়, বরং বাঙালির আত্মার গভীর স্পন্দন ও নতুন করে বেঁচে ওঠার প্রতিশ্রুতি। পুরোনো বছরের ব্যর্থতা ও কষ্ট ভোরের আলোয় ধুয়ে ফেলার এই দিনে জীবন আবার শুরু করার সুযোগ আসে।

বৈশাখী অনুষ্ঠানে মিলনমেলা

১৮ এপ্রিল শনিবার সন্ধ্যায় ইওয়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদেশি ছাত্রছাত্রীদের ছাত্রাবাসের কমন রুমে বাংলাদেশ এক্সচেঞ্জ অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত বৈশাখী অনুষ্ঠান প্রবাসী বাঙালিদের জন্য এক টুকরো স্বদেশ হয়ে উঠেছিল। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের প্রবাসে নয়, বরং চেনা বাংলাদেশে ফিরে আসার অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন।

অনুষ্ঠানে দুই খুদে বাংলাদেশি সুসুমু চান ও মাহ্দী কুনের উপস্থিতি পরিবেশকে প্রাণবন্ত করে তোলে। তাদের নিষ্পাপ হাসি ও উচ্ছলতা নতুন প্রজন্মের বাঙালিয়ানার উন্মেষকে প্রতিফলিত করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

খাবারে শিকড়ের টান

খাবারের টেবিলে পান্তা-ইলিশ, বেগুনভর্তা, আলুভর্তা, শুঁটকিভর্তা, বাদামভর্তা, মাছভর্তা ও ডালের মতো ঐতিহ্যবাহী বাঙালি পদ পরিবেশিত হয়। প্রতিটি খাবার শিকড়ের টান, মায়ার স্পর্শ ও স্মৃতির গন্ধ মনে করিয়ে দেয়। এটি শুধু আহার নয়, বরং স্মৃতি, শিকড় ও আবেগের গভীর প্রকাশ ছিল।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবেগময় মুহূর্ত

গান, আবৃত্তি ও নৃত্যের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দেশের প্রতি ভালোবাসা ও না-পাওয়ার বেদনা মিশে ছিল। সবাই একসঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে গান গাওয়ার মুহূর্তে এই দূরদেশেও বাঙালি পরিচয়ে গর্ববোধ অনুভূত হয়।

এই আয়োজন শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল না, বরং প্রবাসে দাঁড়িয়ে নিজের শিকড়কে নতুন করে খুঁজে পাওয়ার পূর্ণ অনুভব।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নতুন বছরের প্রত্যাশা

পয়লা বৈশাখ জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালায় ও স্বপ্ন দেখতে শেখায়। নতুন বছর যেন ব্যর্থতা ও কষ্টের ভারে পথ হারানো মানুষের জীবনেও আলো, শান্তি ও নতুন শুরু করার সাহস আনে।

নতুন বছরের শুভক্ষণে সবার জীবনে আনন্দ, ভালোবাসা ও শান্তি কামনা করা হয়। দূরপ্রবাসে থেকেও বাংলাদেশের মাটি, মানুষ ও অনুভূতি হৃদয়ের স্পন্দনে চিরদিন রয়ে যায়।

লেখক: ড. সঞ্জয় সরকার, অধ্যাপক, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে প্রাণী গবেষণা সেন্টার, ইওয়াতে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, জাপানে কর্মরত।