ওবামা-মামদানির প্রথম সাক্ষাৎ: শিশুদের সঙ্গে বই পড়া ও গান গাওয়া
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরের একটি চাইল্ডকেয়ার সেন্টারে ইতিহাস গড়ে সাক্ষাৎ হলো সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির। শনিবার অনুষ্ঠিত এই প্রথম বৈঠকে তারা প্রাক-স্কুল শিশুদের জন্য বই পড়ে শুনিয়েছেন এবং একসঙ্গে গান গেয়েছেন।
শিশুদের সঙ্গে সময় কাটানো ও রাজনৈতিক আলোচনা
ওবামা ও মামদানি শিশুদের সামনে ‘অ্যালোন অ্যান্ড টুগেদার’ বইটি পড়ে শোনান এবং জনপ্রিয় গান ‘দ্য হুইলস অন দ্য বাস’ গেয়ে তাদের আনন্দ দেন। তবে, সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের জবাব তারা দেননি, যা এই সাক্ষাতের রাজনৈতিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
মামদানির রাজনৈতিক অবস্থান ও ওবামার সমর্থন
৩৪ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট জোহরান মামদানি মাত্র এক সপ্তাহ আগেই দায়িত্ব পালনের ১০০ দিন পূর্ণ করেছেন। জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তার মূল লক্ষ্য ছিল নিউ ইয়র্ক শহরকে বসবাসের জন্য আরও সাশ্রয়ী করা এবং সংগ্রামী শ্রমজীবী মানুষের সহায়তায় সরকারের ক্ষমতাকে কাজে লাগানো। ডেমোক্র্যাটিক রাজনীতিতে তারুণ্য ও প্রগতিশীল এজেন্ডার কারণে তিনি ব্যাপক আলোচিত। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা ওবামা নবীন রাজনীতিবিদ মামদানির জন্য পরামর্শক হিসেবে পাশে থাকার প্রস্তাব দিয়েছেন, যা তার রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন
এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও কাজের সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন মামদানি। নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে গত নভেম্বর ও ফেব্রুয়ারিতে দুবার বৈঠক করেছেন তিনি। তবে, তাদের সম্পর্কের অবনতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন যে, ট্যাক্স নীতির মাধ্যমে মামদানি ‘নিউ ইয়র্ক ধ্বংস করছেন’। পাশাপাশি তিনি শহরটির ফেডারেল তহবিল বন্ধ করার হুমকিও দিয়েছেন, যা রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে।
মিট দ্য প্রেস-এ মামদানির বক্তব্য
এই উত্তেজনার মধ্যেও রবিবার এনবিসির মিট দ্য প্রেস-এ অংশ নিয়ে উপস্থাপক ক্রিস্টেন ওয়েলকারকে মামদানি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে খুব কম বিষয়ের মিল আছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো নিউ ইয়র্ক শহরের প্রতি আমাদের ভালোবাসা এবং এই শহরের জন্য কাজ করার ইচ্ছা।’ এই মন্তব্যে শহরের প্রতি তার প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি রাজনৈতিক বিভাজনের ইঙ্গিতও পাওয়া যায়।
এই ঘটনা নিউ ইয়র্কের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যেখানে ওবামার সমর্থন ও ট্রাম্পের বিরোধিতা মামদানির ভবিষ্যত ক্যারিয়ারকে প্রভাবিত করতে পারে।



