মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের পর ইউএইর প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে ভারতের অস্ত্র কেনার আলোচনা
ইউএইর প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে ভারতের অস্ত্র কেনার আলোচনা

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে নতুন অস্ত্র সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। এ লক্ষ্যেই ভারতের তৈরি অত্যাধুনিক কিছু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।

আলোচনায় থাকা অস্ত্র ব্যবস্থা

আলোচনায় ভারতের অন্যতম প্রধান অস্ত্র ব্যবস্থা সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র 'ব্রহ্মস' এর পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক 'আকাশতীর' ও রয়েছে। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ভারতীয় সূত্র জানিয়েছে, আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও অগ্রগতি দ্রুত হচ্ছে। ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি। এটি স্থল, সমুদ্র ও আকাশন তিন প্ল্যাটফর্ম থেকেই নিক্ষেপ করা যায় এবং বিশ্বের দ্রুততম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত। অন্যদিকে আকাশতীর হলো ভারতের সেনাবাহিনী ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ভারত ইলেকট্রনিকস লিমিটেডের যৌথভাবে তৈরি একটি স্বয়ংক্রিয় বিমান প্রতিরক্ষা সমন্বয় ব্যবস্থা।

ইউএইর কৌশলগত কারণ

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য নতুন হুমকির মুখে ইউএই তার প্রতিরক্ষা অবকাঠামো আধুনিকায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে দেশটির জ্বালানি রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও তাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক পার্ল পান্ডিয়ার মতে, অস্ত্রের সরবরাহকারী দেশগুলোর বৈচিত্র্য বাড়ালে ইউএই কৌশলগতভাবে আরও স্বাধীন অবস্থান নিতে পারবে। একই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সম্পর্ক গড়ে তোলা দেশটির জন্য অতিরিক্ত কূটনৈতিক সুবিধাও এনে দিতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিদ্যমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সম্ভাব্য সুবিধা

ইউএইর কাছে ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। তবুও আকাশতীরের মতো সমন্বিত প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক বিভিন্ন সেন্সর ও অস্ত্র ব্যবস্থাকে একত্রে পরিচালনার সক্ষমতা বাড়াতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। ব্রহ্মস বিক্রির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রাশিয়ার অনুমোদন। কারণ ক্ষেপণাস্ত্রটি ভারত-রাশিয়ার যৌথ প্রকল্প। তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, আবুধাবির সঙ্গে মস্কোর সুসম্পর্ক থাকায় এটি বড় কোনো বাধা হওয়ার সম্ভাবনা কম।

ভারত-ইউএই সম্পর্ক ও ব্রহ্মসের আন্তর্জাতিক বাজার

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত ও ইউএইর মধ্যে বাণিজ্য, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দুই দেশ যৌথভাবে সামরিক সরঞ্জাম উন্নয়ন নিয়েও কাজ করছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, সম্ভাব্য এই অস্ত্রচুক্তি দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের আরও গভীর হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত বছর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বল্পস্থায়ী সংঘাতে প্রথমবারের মতো যুদ্ধক্ষেত্রে ব্রহ্মস ব্যবহারের পর আন্তর্জাতিক বাজারে ক্ষেপণাস্ত্রটির প্রতি আগ্রহ বেড়েছে বলে ভারতীয় সূত্রগুলোর দাবি। এরপর ভারত ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ব্রহ্মোস রপ্তানির চুক্তি করেছে বলেও জানা গেছে। এছাড়া থাইল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল ও চিলিও এ ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। ভারতের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটির প্রতিরক্ষা রপ্তানি ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে, যা এক দশক আগের তুলনায় কয়েকশ গুণ বেশি। বর্তমানে ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অস্ত্র আমদানিকারক হলেও একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা রপ্তানিকারক হিসেবেও নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।